ঢাকা ১০:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিকাকে ওলামালীগ নেতার শ্লীলতাহানি

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ওলামালীগ নেতার বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. সোলায়মান হোসেন (৩৫) জেলা ওলামালীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

ওই শিক্ষিকা ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্থানীয় একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা কর্মরত। অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেনও একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি আটপারা উপজেলার রামসিদ্ধ গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২২ জুন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েক বছর আগে মোহনগঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় একসঙ্গে কর্মরত ছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন। সেই সময় থেকেই সোলায়মান বিভিন্নভাবে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন, অশালীন মন্তব্য করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জানানো হলে একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। পরে তিনি সেখান থেকে সরে যান এবং পরবর্তীতে আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় বদলি হন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বদলির পরও ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ অব্যাহত রাখেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি ভুক্তভোগীর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের ঘটনায় জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো নিষ্পত্তি হতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

সর্বশেষ ২১ জুন জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন ওই শিক্ষিকার পথরোধ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং ধস্তাধস্তির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনার পরদিন তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছি। এ কারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সুস্থ হয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও জেলা আওয়ামী ওলামালীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সোলায়মান হোসেন জানান উক্ত ঘটনা মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই শিক্ষিকার একটি একাডেমিক সনদ জাল। এ বিষয়ে জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

শিক্ষিকাকে ওলামালীগ নেতার শ্লীলতাহানি

আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে ওলামালীগ নেতার বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত মো. সোলায়মান হোসেন (৩৫) জেলা ওলামালীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য।

ওই শিক্ষিকা ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত স্থানীয় একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসা কর্মরত। অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেনও একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। তিনি আটপারা উপজেলার রামসিদ্ধ গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২২ জুন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। বৃহস্পতিবার উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কয়েক বছর আগে মোহনগঞ্জে ইসলামী ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় একসঙ্গে কর্মরত ছিলেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা ও অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন। সেই সময় থেকেই সোলায়মান বিভিন্নভাবে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন, অশালীন মন্তব্য করতেন এবং মানসিকভাবে হয়রানি করতেন। বিষয়টি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের জানানো হলে একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে। পরে তিনি সেখান থেকে সরে যান এবং পরবর্তীতে আটপাড়া উপজেলার শ্রীরামপুর দারুল আরকাম ইবতেদায়ী মাদরাসায় বদলি হন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, বদলির পরও ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণ অব্যাহত রাখেন অভিযুক্ত শিক্ষক। তিনি ভুক্তভোগীর স্বামীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং অভিযোগ তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে একই ধরনের ঘটনায় জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সেগুলো নিষ্পত্তি হতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

সর্বশেষ ২১ জুন জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় অভিযুক্ত সোলায়মান হোসেন ওই শিক্ষিকার পথরোধ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন এবং ধস্তাধস্তির চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। ওই ঘটনার পরদিন তিনি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছি। এ কারণে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। সুস্থ হয়ে অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও জেলা আওয়ামী ওলামালীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. সোলায়মান হোসেন জানান উক্ত ঘটনা মিথ্যা বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ওই শিক্ষিকার একটি একাডেমিক সনদ জাল। এ বিষয়ে জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের কাছে অভিযোগ দেওয়ায় আমার কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।