ঢাকা ০৯:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ থাকলেও নেই নাহিদদের অনুষ্ঠানে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে দুটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ থাকলেও জাতীয় ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে অন্ধকারেই কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে আয়োজকদের। ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে একটি বিড়াল মারা যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘স্মরণগাঁথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

এ সময় আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচি শুরুর আগে দুপুর ২টা থেকেই অডিটোরিয়ামে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে তারা অনুষদের ডিন, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে দীর্ঘ সময়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল শাখার আহ্বায়ক সাইদুর রহমান শাহিদ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ২টা থেকেই পুরো অডিটোরিয়ামে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রথমে বলা হয়, ফিউজ পুড়ে গেছে। পরে বলা হয়, দীর্ঘ সময় চলার কারণে জেনারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে টিএসসিতে বিদ্যুৎ ছিল এবং সেখানে অনুষ্ঠান চলছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমরা আইএমএল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রথমে সেখানে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু বুকিংয়ের কথা বলার পর জানানো হয়, সেখানেও বিদ্যুৎ নেই। কলাভবনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। প্রধান অতিথি নাহিদ ইসলাম আসার পরও বিদ্যুৎ ফেরেনি। বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান চালাতে হয়েছে।’

সাইদুর রহমান শাহিদের দাবি, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার দিকে ডিনের সঙ্গে আয়োজকদের কথা-কাটাকাটির কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি তাদের কাছে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁরা ডিনের কক্ষে গেলে কাজ চলছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। এরপর কয়েক দফা যোগাযোগ করেও বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আগে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। ফলে মূল কর্মসূচির বড় অংশ অন্ধকারেই অনুষ্ঠিত হয়।

এ ঘটনাকে সাধারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে মানতে নারাজ আয়োজকেরা। তাদের দাবি, কার নির্দেশে অনুষ্ঠানটি বাধাগ্রস্ত করতে বিদ্যুৎ নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রকাশের দাবি জানান তারা।

‘প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের দায় নিতে হবে’

ঘটনার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসূচি চলাকালে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ ঘটনার দায় নিতে হবে। এমন পরিস্থিতি হলে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিকেল ৩টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কর্মসূচি শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যায়। আইএমএল ভবনে যাওয়ার সময় সেখানে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু পরিচালককে ফোন করার পর সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও কলাভবনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু একটি জায়গায় হলে কাকতালীয় বলা যেত। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় একই ঘটনা ঘটায় এটিকে পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। শুধু টিএসসিতে বিদ্যুৎ থাকবে, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোথাও থাকবে না এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এখানে বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি এসেছেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মসূচি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে দেড় ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষদের একজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক হিসেবে কথা বলছি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দায়ী করছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আপনাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

‘বিড়াল মারা যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন’

তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)। তিনি দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি জায়গাতেও বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া যায়।

প্রক্টর বলেন, ‘আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে যান। এরপর ডিপিডিসির লোকজনও সেখানে যান। তাঁরা দেখতে পান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে একটি বিড়াল মারা যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ নয়। কোনো নির্দিষ্ট দল অনুষ্ঠান করছে বলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন ঘটনা ঘটেনি। এনসিপির সংসদ সদস্যও আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁকেও আমি বলেছি, এটি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনুষদের ডিন ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ থাকলেও নেই নাহিদদের অনুষ্ঠানে

আপডেট সময় ০৮:০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে দুটি অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ থাকলেও জাতীয় ছাত্রশক্তির অনুষ্ঠানে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ ছিল না। এতে অন্ধকারেই কর্মসূচি পালন করতে হয়েছে আয়োজকদের। ঘটনাটিকে ‘পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে একটি বিড়াল মারা যাওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

আজ বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেল ৩টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে ‘স্মরণগাঁথায় জুলাই: বিপ্লবের দিনগুলি’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। প্রধান আলোচক ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।

এ সময় আয়োজকেরা জানান, কর্মসূচি শুরুর আগে দুপুর ২টা থেকেই অডিটোরিয়ামে বিদ্যুৎ ছিল না। পরে তারা অনুষদের ডিন, প্রধান প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে দীর্ঘ সময়েও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।

এ বিষয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মহসিন হল শাখার আহ্বায়ক সাইদুর রহমান শাহিদ বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুপুর ২টা থেকেই পুরো অডিটোরিয়ামে বিদ্যুৎ ছিল না। আমরা বারবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। প্রথমে বলা হয়, ফিউজ পুড়ে গেছে। পরে বলা হয়, দীর্ঘ সময় চলার কারণে জেনারেটর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ একই সময়ে টিএসসিতে বিদ্যুৎ ছিল এবং সেখানে অনুষ্ঠান চলছিল।’

তিনি বলেন, ‘পরিস্থিতি খারাপ দেখে আমরা আইএমএল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। প্রথমে সেখানে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু বুকিংয়ের কথা বলার পর জানানো হয়, সেখানেও বিদ্যুৎ নেই। কলাভবনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। প্রধান অতিথি নাহিদ ইসলাম আসার পরও বিদ্যুৎ ফেরেনি। বাধ্য হয়ে মোবাইল ফোনের আলো জ্বালিয়ে অনুষ্ঠান চালাতে হয়েছে।’

সাইদুর রহমান শাহিদের দাবি, অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার দিকে ডিনের সঙ্গে আয়োজকদের কথা-কাটাকাটির কয়েক মিনিটের মধ্যেই বিদ্যুৎ ফিরে আসে। এ কারণে পুরো ঘটনাটি তাদের কাছে পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে তাঁরা ডিনের কক্ষে গেলে কাজ চলছে বলে আশ্বস্ত করা হয়। এরপর কয়েক দফা যোগাযোগ করেও বিকেল ৪টা ২০ মিনিটের আগে বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। ফলে মূল কর্মসূচির বড় অংশ অন্ধকারেই অনুষ্ঠিত হয়।

এ ঘটনাকে সাধারণ বিদ্যুৎ বিভ্রাট হিসেবে মানতে নারাজ আয়োজকেরা। তাদের দাবি, কার নির্দেশে অনুষ্ঠানটি বাধাগ্রস্ত করতে বিদ্যুৎ নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে প্রকৃত কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে শিক্ষার্থীদের সামনে তা প্রকাশের দাবি জানান তারা।

‘প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের দায় নিতে হবে’

ঘটনার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিনকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, কর্মসূচি চলাকালে বিদ্যুৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের এ ঘটনার দায় নিতে হবে। এমন পরিস্থিতি হলে তাঁদের পদত্যাগ করা উচিত।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বিকেল ৩টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আগে থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কর্মসূচি শুরুর পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ চলে যায়। আইএমএল ভবনে যাওয়ার সময় সেখানে বিদ্যুৎ ছিল। কিন্তু পরিচালককে ফোন করার পর সেখানে বিদ্যুৎ চলে যায়। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ও কলাভবনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

তিনি বলেন, ‘বিষয়টি শুধু একটি জায়গায় হলে কাকতালীয় বলা যেত। কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় একই ঘটনা ঘটায় এটিকে পরিকল্পিত মনে হচ্ছে। শুধু টিএসসিতে বিদ্যুৎ থাকবে, আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য কোথাও থাকবে না এটি কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয়।’

এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এখানে বিরোধী দলের একজন প্রতিনিধি এসেছেন। জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মসূচি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সক্রিয় ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচিতে দেড় ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ নেই এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অনুষদের একজন সাবেক শিক্ষার্থী এবং একজন অভিভাবক হিসেবে কথা বলছি। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে দায়ী করছি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে আপনাদের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।’

‘বিড়াল মারা যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন’

তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) সহযোগী অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং (ইসরাফিল রতন)। তিনি দ্য ঢাকা ডায়েরিকে বলেন, মোজাফফর আহমেদ চৌধুরী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠান চলাকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। একই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও কয়েকটি জায়গাতেও বিদ্যুৎ না থাকার খবর পাওয়া যায়।

প্রক্টর বলেন, ‘আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে যান। এরপর ডিপিডিসির লোকজনও সেখানে যান। তাঁরা দেখতে পান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ সাবস্টেশনে একটি বিড়াল মারা যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ নয়। কোনো নির্দিষ্ট দল অনুষ্ঠান করছে বলে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে—এমন ঘটনা ঘটেনি। এনসিপির সংসদ সদস্যও আমাকে ফোন করেছিলেন। তাঁকেও আমি বলেছি, এটি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর আমি সঙ্গে সঙ্গে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। অনুষদের ডিন ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলেছি। দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।’