দুই সপ্তাহে ২৫ বাড়ি বিলীন, তিস্তার কবলে সর্বস্বান্ত নদীপাড়ের মানুষ
- আপডেট সময় ০৩:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / ১৭ বার পড়া হয়েছে
উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের প্রভাবে গত দুই সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকায় অন্তত ২৫টি বসতবাড়ি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মণ্ডলপাড়া জামে মসজিদ ও পূর্ব চর বিদ্যানন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে তিস্তা নদীর ভাঙন অনেক বাড়ির দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। এতে শতাধিক পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ এলাকার বাসিন্দা ছবুর আলী (৬৮) বলেন, আমার বাড়ি ১৭ বার নদীতে ভেঙেছে। ত্রাণ পেয়েছি, কিন্তু ভাঙন ঠেকাতে কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা পাইনি। এভাবে আর কতদিন?
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। আমরা ত্রাণ চাই না, এমন ব্যবস্থা চাই যাতে আর ঘরবাড়ি হারাতে না হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের পশ্চিম চর বিদ্যানন্দ দুর্গম হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটি অবহেলিত। যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় দুর্যোগের সময় কিছু ত্রাণ সহায়তা মিললেও নদীভাঙন রোধে কোনো টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাজিয়া বেগম বলেন, তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সঙ্গে তার এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তুলনায় সরকারি সহায়তা খুবই কম। গত সোমবার মাত্র ৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জিআরের চাল দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাইজুল ইসলাম বলেন, উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার এবং সাত টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, পশ্চিম চর বিদ্যানন্দে নদীভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কাজ চলমান রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















