ঢাকা ০৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নোবিপ্রবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা: প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৩:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬
  • / ৫২ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নোবিপ্রবিতে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পর জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সাংবাদিকরা।

এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে গতকাল ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় কালের কন্ঠের প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য মানববন্ধন করেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিকরা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর নিকট স্মারকলিপি জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার দেশের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উভয় পক্ষই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা দূর গড়াত না বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে এটি তাদের সাংগঠনিক ও দলীয় ব্যর্থতা।

গতকালই যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কন্ঠের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, “ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের হামলা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের যে স্বৈরাচারী ভূমিকা আমরা দেখেছি, এখন যদি একই ধরনের ভূমিকা ছাত্রদলের কাছে চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি।

আমি প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাবো, তারা যেন ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ার এবং অতীতের মতো স্বৈরাচারী পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

আমাদের কাছে এ ঘটনায় যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তাই এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪ এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ, মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নোবিপ্রবিতে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদলের হামলা: প্রতিবাদ এবং বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় ০৩:২৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদ এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নোবিপ্রবিতে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের পর জড়িতদের বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছে সাংবাদিকরা।

এশিয়া পোস্টের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি তৌফিক আল মাহমুদের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে ক্যাম্পাসে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে গতকাল ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল কিছু নেতাকর্মীদের দ্বারা বিশ্ববিদ্যালয় কালের কন্ঠের প্রতিনিধি সাদমান রাকিন, মানবজমিনের প্রতিনিধি মাহী ছিদ্দীকী সিয়াম এবং প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মেহেদী হাসানের উপর হামলার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিচারের আওতায় আনার জন্য মানববন্ধন করেন ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা। এসময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মরত সাংবাদিকরা এবং সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মানববন্ধন শেষে ক্যাম্পাসে কর্মরত ৩৩ জন ক্যাম্পাস সাংবাদিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানীর নিকট স্মারকলিপি জমা দেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার দেশের প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নাহিদুল ইসলাম বলেন, “গতকাল ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব উভয় পক্ষই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করত, তাহলে পরিস্থিতি এতটা দূর গড়াত না বলে আমরা মনে করি। এ ক্ষেত্রে এটি তাদের সাংগঠনিক ও দলীয় ব্যর্থতা।

গতকালই যখন বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে, তখনই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে, ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।”

এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কালের কন্ঠের প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সভাপতি সাদমান রাকিন বলেন, “ক্যাম্পাসে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে, বিশেষ করে সংবাদ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকদের ওপর যে ধরনের হামলা ও আক্রমণের ঘটনা ঘটছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক ও উদ্বেগজনক। গত ১৭ বছর ধরে ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্রলীগের যে স্বৈরাচারী ভূমিকা আমরা দেখেছি, এখন যদি একই ধরনের ভূমিকা ছাত্রদলের কাছে চলে যায়, তাহলে বিষয়টি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখজনক। কারণ জুলাই আন্দোলনে আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করেছি।

আমি প্রশাসনের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানাবো, তারা যেন ঘটনাগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অন্যথায় প্রশাসন যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হওয়ার এবং অতীতের মতো স্বৈরাচারী পরিস্থিতি ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

আমাদের কাছে এ ঘটনায় যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ রয়েছে এবং আমরা সেগুলো প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেছি। পাশাপাশি বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। তাই এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যথাযথ ও দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

এছাড়াও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্তা বাজারের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি ফাহাদ হোসেন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি সাজিদ খান, ভোরের বাণীর প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি নাঈমুর রহমান, চ্যানেল ২৪ এর প্রতিনিধি কাউসার আহমেদ, মুক্ত কলমের প্রতিনিধি ও নোবিপ্রবি সাংবাদিক সমিতির সদস্য ফাইজা আফরোজ প্রমি।