‘মব’ করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে পদত্যাগে বাধ্য
- আপডেট সময় ০৬:৪১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ৩১ বার পড়া হয়েছে
মব সৃষ্টি করে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. জাওয়াদুল হক ও সেকশন অফিসার (অর্থ) মো. নাজমুল হোসাইনকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগতরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ভিসি কার্যালয় ঘেরাও করেন একদল বহিরাগত। এ সময় তারা উপাচার্যকে ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এক পর্যায়ে উপাচার্যের কক্ষে প্রবেশ করে তাকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
চ্যান্সেলরের কার্যালয়ের জনবিভাগ সচিব এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ সচিব বরাবর দেওয়া পদত্যাগপত্রে লেখা হয়েছে, ‘বর্তমানে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমার পক্ষে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিধায় আমি আজ ৬ অক্টোবর রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করলাম।’
একই বক্তব্য লেখা আছে সেকশন অফিসারের পদত্যাগপত্রে। এতে লেখা হয়েছে, ‘আমি ২০১৮ সাল থেকে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালায়ে সেকশন অফিসার (অর্থ) পদে চাকুরি করে আসছি। বর্তমানে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত কারণে আমার পক্ষে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকুরি করা সম্ভব হচ্ছে না। বিধায় আজ ৬ অক্টোবর আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকুরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা প্রদান করলাম।’
তথ্য বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টেন্ডারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন নির্মাণের ৫৩৯ কোটি টাকার দরপত্র সাবেক স্বাস্থ্য সচিব (বর্তমানে জনপ্রশাসন সচিব) কামরুজ্জামান চৌধুরীর নির্দেশে গত আট মাস ধরে আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়া এবং কারিগরি শর্ত পূরণ না করার কারণে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তিনটি বাদ পড়ায় ‘ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড’ একমাত্র যোগ্য দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়। তবে এতে বাধা হয়ে দাঁড়ান তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব। এ নিয়ে স্বাস্থ্য সচিবের নির্দেশনায় দরপত্র মূল্যায়ন কার্যক্রম আটকে আছে বলে ওই গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন উপাচার্য। এরপর থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করে আন্দোলন শুরু হয়।
পদত্যাগের বিষয়ে ভিসি অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা কিছু স্থানীয় ঠিকাদার ও বহিরাগতরা হঠাৎ জোর করে তার অফিসে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের কাজ না দিয়ে ঢাকার ঠিকাদারদের কাজ দেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তারা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দিতে থাকে।
তিনি বলেন, একপর্যায়ে তারা জরপূর্বক একটি পদত্যাগপত্রে তার স্বাক্ষর আদায় করে এবং তাকে অফিস থেকে বের করে দিয়ে কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ভিসি ইতোমধ্যে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করেছেন।



















