চাঁদা না দেওয়ায় রড দিয়ে পিটিয়ে ব্যবসায়ীর পা ভেঙে দিলেন যুবদল নেতা
- আপডেট সময় ০৬:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা সদর দক্ষিণে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যবসায়ীকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারিফুল ইসলাম ওরফে তারিফ নামের এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে।
হামলায় শিকার শরিফুল ইসলাম (৩৯) বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ঘটনায় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়।
অভিযুক্ত তারিফুল ইসলাম কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব। ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম একই উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের হরেশপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় জমি বেচাকেনার ব্যবসা করেন।
শরিফুলের ভাই আবদুল কুদ্দুস মাখন বলেন, “দলের নাম ব্যবহার করে আমার ভাইয়ের কাছে ধাপে ধাপে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন তারিফুল ইসলাম ওরফে তারিফ। তিনি বলেন, ‘এলাকায় থাকতে হলে ও ব্যবসা করতে হলে চাঁদা দিতে হবে’। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ভাইকে দলবল নিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর বাজারে ‘মামার বাড়ি’ নামের একটি টক-মিষ্টির দোকানের সামনে তারিফের নেতৃত্বে তার ভাই আরিফসহ ১২-১৩ জন শরিফুলের ওপর হামলা চালান। এসময় তাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
একপর্যায়ে যুবদল নেতা তারিফ রড দিয়ে শরিফুলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে আঘাত করেন। এতে পায়ের হাড় ভেঙে যায়। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হামলার পর তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, একটি আইফোনসহ দুটি মোবাইলফোন নিয়ে যান হামলাকারীরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জমির বেচাকেনা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যুবদল নেতা তারিফসহ হামলাকারীরা আমার পূর্বপরিচিত। বিদেশ থেকে দেশে এসে ব্যবসা করার সময় তারিফ আমাকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে বলে। আমি চাঁদা না দেওয়ায় দলবল নিয়ে আমাকে রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারিফ শুধু আমার কাছে চাঁদা চায়নি। সে বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহেরের কাছ থেকেও মিষ্টি খাওয়ার কথা বলে চাঁদা চেয়েছে।’
এ বিষয়ে বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেন, ‘আমি যখন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হই, তখন সে মিষ্টি খাওয়ার জন্য আমার কাছে টাকা চেয়েছিল। পরে বিষয়টি এমপি মনিরুল হক চৌধুরী সমাধান করে দেন। এটা নিয়ে নিয়ে আমি এখন কথা বলতে চাই না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব তারিকুল ইসলাম তারিফকে ফোন দেওয়া হলে ‘আমি ভাত খাইতেছি, ফালতু’ বলে কলটি কেটে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘যুবদলের কোনো নেতা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। জেলা যুবদলের পক্ষ থেকে বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তারিফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত (ওসি) কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আসতে বলেন। ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই মামলা নেওয়া হবে।’



















