গঙ্গাচড়ায় পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সার পাচ্ছেন না কৃষক
- আপডেট সময় ১০:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬ বার পড়া হয়েছে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সার পাচ্ছেন না কৃষক। ফলে জমি প্রস্তুত করেও সারের অভাবে আগাম সবজির বীজ রোপণ করতে পারছেন না তারা। নির্ধারিত সময়ে চাষাবাদ শুরু করতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা কৃষকের। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী উপজেলায় বর্তমানে মজুত রয়েছে ৮৩৬.২০ টন সার। বিপুল সার মজুত থাকার পরও কৃষক তা না পাওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের মিনার বাজার ও আশপাশের এলাকার কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সারের অভাবে তাদের চাষাবাদে বিঘ্ন ঘটছে। বিশেষ করে আগাম আলু, বাদাম, ভুট্টা ও সবজি চাষের প্রস্তুতি নিয়েও জমিতে বীজ রোপণ করতে পারছেন না তারা। এতে ফসলের উৎপাদন পিছিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে আগাম বাজারে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগও হারানোর আশঙ্কায় কৃষকরা।
মিনার বাজার এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন ৫৪ শতক জমিতে আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছেন। কিন্তু সারের অভাবে এখনো আলু রোপণ করতে পারেননি। মোশারফ হোসেন বলেন, আগে সার পেলে এতদিনে আলুগাছ দুই থেকে তিন ইঞ্চি বড় হয়ে যেত। সময়মতো আলু তুলতে পারতাম এবং আগাম বাজারে বিক্রি করে বেশি দাম পাওয়ার সুযোগ থাকত। কিন্তু সারের অভাবে এখনো আলু লাগাতে পারিনি।
একই এলাকার কৃষক মহুবার রহমান ৯৫ শতক জমিতে বাদাম চাষ করতে চান। সার সংগ্রহের জন্য কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েও তা পাননি বলে জানান তিনি। মহুবার রহমান বলেন, সারের জন্য কয়েকবার ডিলারের কাছে গিয়েছি; কিন্তু পাইনি। এ কারণে এখন পর্যন্ত বাদাম লাগাতে পারিনি। সরকারের কাছে আমার আবেদন, দ্রুত সারের সরবরাহ বাড়ানো হোক, যাতে আমরা সময়মতো চাষাবাদ করতে পারি।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের ভুট্টাচাষি ছবুর আলী বলেন, ভুট্টা চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছি, কিন্তু প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছি না। ডিলারের কাছে গিয়ে সার না পেয়ে বিপাকে পড়েছি। সময়মতো সার দিতে না পারলে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী গঙ্গাচড়ায় বর্তমানে চার ধরনের রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে ৮৩৬.২০ টন। এর মধ্যে ইউরিয়া ২৩২.৪৫ টন, টিএসপি ২৬.৫০ টন, ডিএপি ২৫৭.৮০ টন এবং এমওপি ৩১৯.৪৫ টন। এত বিপুল পরিমাণ সার মজুত থাকার পরও কৃষকের প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগে মজুত ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে অসংগতি রয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তবে সার ডিলার ও ব্যবসায়ীদের দাবি, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। নোহালী ইউনিয়নের সার ডিলার লেবু মিয়া বলেন, সারের কোনো সংকট নেই। বর্তমানে ব্যাপক সার মজুত রয়েছে। এখন কোনো ফসল আবাদের মৌসুম নয়, তাই সার মজুত রাখা হচ্ছে। মৌসুম শুরু হলে কৃষকদের সার দেওয়া হবে। এখন সার সরবরাহ করা হলে অনেকে মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে পারেন। উপজেলার অন্যান্য সার ব্যবসায়ী ও ডিলারও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন।
অন্যদিকে লক্ষ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, উপজেলায় সার মজুত থাকার পরও কৃষক কেন প্রয়োজনের সময় সার পাচ্ছেন না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। সার না পাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ডিলারদের গুদামে সার থাকলে তা কৃষকদের কাছে যথাযথভাবে সরবরাহ করতে হবে। সার নিয়ে কোনো অনিয়ম বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কৃষকদের স্বার্থে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চান তিনি।
গঙ্গাচড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন বলেন, উপজেলায় বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। সারের মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। কৃষক যাতে সরকার নির্ধারিত মূল্যে প্রয়োজনীয় সার পান, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।



















