ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের বাসায় ছাত্রদল-যুবদলের মবের মুখে হাসনাত

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ১০:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৩২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম মঞ্জুর বাড়িতে এসে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মবের মুখে পড়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে চট্টগ্রামে এসে আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। যা তার কাছ থেকে কাম্য নয়৷ তবে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে মেয়র হওয়া মনজুর আলম পরবর্তীতে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে গেলেও কোন পদ পাননি তিনি। এছাড়া গণঅভ্যূত্থানের পরে তাকে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে লোকজনের উত্তেজনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয়দানকারী বেশ কয়েকজন যুবক। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান মনজুর আলম মঞ্জুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে রয়েছেন কি না, তাছাড়া আপনারা কী বলবেন, সুশৃঙ্খলভাবে একজন একজন করে বলেন৷ এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা চলে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়িতে ওঠে স্থান ত্যাগ করেন৷

এনসিপি সূত্র জানায়, বিশেষ কাজে চট্টগ্রাম এসেছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। দুপুরে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলম মঞ্জুরের দাওয়াতে তার কাট্টলীর বাড়িতে যান তিনি। সেখানে দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে বিকালে বের হওয়ার আগেই খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দানকারী অর্ধশতাধিক যুবক। এ সময় তারা মনজুর আলমের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে অবরুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে কেন আওয়ামী লীগের দোসরের বাড়িতে এসেছেন জানতে চেয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাহেদ আকবর জানান, এমপি হাসনাত আবদুৃল্লাহ সাহেব আওয়ামী লীগের দোসর মনজুর আলম মনজুর বাড়িতে গিয়েছেন৷ এতে জুলাই যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ঘিরে ধরেন৷ আমরা বলেছি, আপনি আমাদের এলাকায় আসবেন অবশ্যই আমরা আপনাকে মেহেমানদারি করব৷ কিন্তু যার বাড়িতে গিয়েছেন, সে আওয়ামী লীগের দোসর এবং এটা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি দিদারুল আলমেরও বাড়ি৷ তিনি সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেও বাস্তবে তার উল্টোটা করছেন৷ এটা কি তিনি ঠিক করেছেন? আমরা তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানিয়েছি দাবি করেন সাহেদ আকবর।

অন্যদিকে এনসিপির নেতারা যুবদল ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলেছেন৷ তারা বলছেন, মনজুর আলম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এবং বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র। কয়েক দিন আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বড় পরিসরে মেজবানির আয়োজন করেন৷ সেখানে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন জানান, মনজুর আলম মনজুকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার ব্যাপারে সেখানে কথা বলতে যান দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। কিন্তুু জুলাই যোদ্ধা নামধারী কিছু যুবদল-ছাত্রদলের কর্মী তাকে ঘিরে মব সৃষ্টির চেষ্টা করে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নীলা আফরোজ জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জুলাই যোদ্ধা নামধাররী কতিপয় ব্যক্তি সম্মানিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাইকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। তারা সবাই কাট্টলীর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। মনজুর আলমকে তারা আওয়ামী লীগ দাবি করলেও দীর্ঘ দিন তিনি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। প্রয়াত খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন বলে তার সঙ্গে সবার যোগাযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস দিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে সাবেক চসিক মেয়র মনজুর আলম মনজু বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ দুপুরে চট্টগ্রামে আসলে আমি তাকে দাওয়াত দিয়ে বাসায় আনি। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি বিকেলে আমার বাসা থেকে বের হন। এরপর বাইরে কী ঘটেছে, আমি তা জানি না।।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের বাসায় ছাত্রদল-যুবদলের মবের মুখে হাসনাত

আপডেট সময় ১০:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনজুর আলম মঞ্জুর বাড়িতে এসে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মবের মুখে পড়েছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। যুবদল-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দাবি, সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়ে চট্টগ্রামে এসে আওয়ামী লীগের দোসরদের সঙ্গে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। যা তার কাছ থেকে কাম্য নয়৷ তবে বিএনপির হয়ে নির্বাচন করে মেয়র হওয়া মনজুর আলম পরবর্তীতে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগে গেলেও কোন পদ পাননি তিনি। এছাড়া গণঅভ্যূত্থানের পরে তাকে বেগম জিয়ার জন্য দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর উত্তর কাট্টলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এদিকে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে লোকজনের উত্তেজনার একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এসব ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হয়েছেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয়দানকারী বেশ কয়েকজন যুবক। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহ জানতে চান মনজুর আলম মঞ্জুর বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না, তিনি আওয়ামী লীগের কোনো পদে রয়েছেন কি না, তাছাড়া আপনারা কী বলবেন, সুশৃঙ্খলভাবে একজন একজন করে বলেন৷ এ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বাগবিতণ্ডা চলে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়িতে ওঠে স্থান ত্যাগ করেন৷

এনসিপি সূত্র জানায়, বিশেষ কাজে চট্টগ্রাম এসেছিলেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। দুপুরে সাবেক সিটি মেয়র মনজুর আলম মঞ্জুরের দাওয়াতে তার কাট্টলীর বাড়িতে যান তিনি। সেখানে দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষে বিকালে বের হওয়ার আগেই খবর পেয়ে সেখানে ভিড় করেন জুলাই যোদ্ধা পরিচয় দানকারী অর্ধশতাধিক যুবক। এ সময় তারা মনজুর আলমের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহকে অবরুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে কেন আওয়ামী লীগের দোসরের বাড়িতে এসেছেন জানতে চেয়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাহেদ আকবর জানান, এমপি হাসনাত আবদুৃল্লাহ সাহেব আওয়ামী লীগের দোসর মনজুর আলম মনজুর বাড়িতে গিয়েছেন৷ এতে জুলাই যোদ্ধারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে ঘিরে ধরেন৷ আমরা বলেছি, আপনি আমাদের এলাকায় আসবেন অবশ্যই আমরা আপনাকে মেহেমানদারি করব৷ কিন্তু যার বাড়িতে গিয়েছেন, সে আওয়ামী লীগের দোসর এবং এটা আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি দিদারুল আলমেরও বাড়ি৷ তিনি সংসদে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেও বাস্তবে তার উল্টোটা করছেন৷ এটা কি তিনি ঠিক করেছেন? আমরা তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায় জানিয়েছি দাবি করেন সাহেদ আকবর।

অন্যদিকে এনসিপির নেতারা যুবদল ও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টি করার অভিযোগ তুলেছেন৷ তারা বলছেন, মনজুর আলম খালেদা জিয়ার সাবেক উপদেষ্টা এবং বিএনপি থেকে নির্বাচিত সাবেক মেয়র। কয়েক দিন আগে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জন্য বড় পরিসরে মেজবানির আয়োজন করেন৷ সেখানে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী অংশ নিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সমন্বয়কারী আরিফ মঈনুদ্দিন জানান, মনজুর আলম মনজুকে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করার ব্যাপারে সেখানে কথা বলতে যান দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। কিন্তুু জুলাই যোদ্ধা নামধারী কিছু যুবদল-ছাত্রদলের কর্মী তাকে ঘিরে মব সৃষ্টির চেষ্টা করে।

কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নীলা আফরোজ জানান, আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি জুলাই যোদ্ধা নামধাররী কতিপয় ব্যক্তি সম্মানিত সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ভাইকে হেনস্তার চেষ্টা করেছেন। তারা সবাই কাট্টলীর যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী। মনজুর আলমকে তারা আওয়ামী লীগ দাবি করলেও দীর্ঘ দিন তিনি বিএনপির সঙ্গে রাজনীতি করেছেন। প্রয়াত খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন। নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন বলে তার সঙ্গে সবার যোগাযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি। হোয়াটসঅ্যাপে এসএমএস দিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি।

এ বিষয়ে সাবেক চসিক মেয়র মনজুর আলম মনজু বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ দুপুরে চট্টগ্রামে আসলে আমি তাকে দাওয়াত দিয়ে বাসায় আনি। দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে তিনি বিকেলে আমার বাসা থেকে বের হন। এরপর বাইরে কী ঘটেছে, আমি তা জানি না।।