ঢাকা ১০:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিএনপির ইশতেহারে মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে রাজনীতিকীকরণ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নগ্ন দলীয়করণের রেকর্ড হয়েছিল পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণহত্যায় সহযোগী উপাচার্যদের সরিয়ে বা তাদের পদত্যাগের কারণে শূন্যপদে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব উপাচার্যের মধ্যে দুয়েকজন জামায়াতপন্থি বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়হীন থাকলেও বাকি সবাই ছিলেন বিএনপির অনুসারী বা সক্রিয় সদস্য।

চার বছরের জন্য এসব উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুঃখজনকভাবে দুই বছর মেয়াদ পূরণেরও সুযোগ পাননি তারা। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় শুরু হয় উপাচার্য পরিবর্তন। ৫৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাকিগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্টরা টিকে থাকতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারার পদেও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপাচার্য ও অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবিসহ ভিন্ন বিভাগের শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোক থাকলেও অনেকক্ষেত্রে নিয়োগ পাচ্ছেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব কারণে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া কিছু বিতর্কিত শিক্ষকও নিয়োগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের এক ঘণ্টার মাথায় তা বাতিল করা। একই ধরনের অভিযোগে ২৩ দিনের মাথায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়েছে।

এসব নিয়োগ নিয়ে খোদ বিএনপিপন্থি শিক্ষকসহ শিক্ষাবিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদ, অস্বস্তি ও নানা সমালোচনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপাচার্য পদপ্রত্যাশী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারা দুঃখজনক বলে কেউ কেউ মনে করেন। উপাচার্যের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা তদারক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও চাপা অসন্তোষ রয়েছে।

অবশ্য নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বুঝে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পদত্যাগ করলে সেখানে সহজেই নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিএনপির ইশতেহারে মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাইযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ এবং শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছেÑএকটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ইশতেহারের ‘নির্বাচনি অঙ্গীকার : প্রধান প্রতিশ্রুতি’ অংশে বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন অংশে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্যপর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তবে সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইশতেহারের সে প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগের সমালোচনা করে সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপ-উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন আমার দেশকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্টদের তাড়িয়ে ভিসি, প্রোভিসি নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের মেয়াদ পূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কারণ তাদের কেউ ফ্যাসিস্ট ছিলেন না। কিন্তু বর্তমানে যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ভিসি, প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সততা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

সার্চ কমিটির সুপারিশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগের নিয়ম রয়েছে। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তা পরিত্যক্ত হয়।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৫ সালের ১৮ মে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরারকে প্রধান করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে সুপারিশ প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। তবে বাস্তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়ে ওই কমিটির সুপারিশ ছাড়া সে প্রক্রিয়া আর পরে অনুসরণ করা হয়নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১ এপ্রিল সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছয় সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, ইউজিসির একজন সদস্য ও ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়)। এ সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

এদিকে স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য নিয়োগের মূল বিধান অনুযায়ী সিনেটে নির্বাচিত তিন সদস্যের প্যানেল থেকে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সে প্রক্রিয়াও ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না।

বর্তমান সরকারের সময়ে এ পর্যন্ত কতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে বা আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন হবে কি নাÑএমন তথ্য জানতে চাইলে সার্চ কমিটির সদস্য সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মাহবুবুল হক পাটোয়ারী ১৮ জুন আমার দেশকে জানান, তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগ দিয়েছেন, সার্চ কমিটিতে এখনো তার কাজের সুযোগ হয়নি। তাই ভিসি নিয়োগের সঠিক পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি। তবে কয়েক দফায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে।

একযোগে আট ভিসি পরিবর্তন, সমালোচনা

বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো একযোগে আট পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়। একই দিনে পরিবর্তন করা হয় ইউজিসি চেয়ারম্যানও। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন করা ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্যদের মেয়াদ মাত্র দেড় বছর না যেতেই তা অনেকটা গণহারে পরিবর্তন হওয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় লোকদের বসাতেই কোনো কারণ ছাড়া আগের ভিসিদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। পরে দফা দফায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, গত ১৬ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগের কথা জানান। পরে সে নিয়োগের বিষয়ে ১৬ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনগুলো ১৭ মার্চ প্রকাশ করা হয়। এতে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়ে আটটিতে দাঁড়ায়। নতুন ভিসি নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগের ভিসিদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।

এসব উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, একাডেমিক যোগ্যতা, পিএইচডি, পোস্টডক ও সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য নিয়োগ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, একজন লোকের রাজনীতি করা কি অপরাধ?

সূত্রমতে, এ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের একজন সরাসরি বিএনপির পদে রয়েছেন। বাকিরা দলটির পেশাজীবী সংগঠনÑজিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ বা শিক্ষক সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা।

১৬ মার্চ ঢাবির উপাচার্য নিযুক্ত হন জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের সহসভাপতি। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরিচালনায় জিয়া পরিষদের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারেও অংশ নেন তিনি।

একইভাবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম রাবির জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ অধ্যাপক সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হন জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খান। বর্তমান সরকার গঠনের দুদিন আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি এ পদে বুয়েটের অধ্যাপক মো. আবদুল হাছিবকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খান জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভিসি হন বিশ্ববিদ্যালয়টির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিএনপিপন্থি এ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে অব্যাহতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রায় এক বছর পর ফের নিয়োগ পান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য হন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। তিনি সাদা দলেরও সাধারণ সম্পাদক।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এ অধ্যাপক এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন।

এদিকে ১৬ মার্চ ইউজিসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি ছিলেন।

বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা

একযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়ে কড়া সমালোচনা করে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তাৎক্ষণিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক যাচাই-বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু পদত্যাগ করিয়ে, সরকার দলান্ধ লোকদের পোস্টিং দিয়ে খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে, যেটা নিন্দনীয় এবং জুলাইয়ের স্পিরিট-মেধার অবমাননা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ ‍উপাচার্য নিয়োগ

দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ মে ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে ১০টিতেই অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সময় বুয়েটের ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. একরামুল হক। তিনি তুলনামূলক অনেক জুনিয়র শিক্ষক বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পান লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সাদা দলের আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ২০২৫ সালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে অপসারণ করা হয়েছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম উপাচার্য হয়েছেন বিএনপিপন্থি ইউট্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএম শরীফুল করীম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। ঢাবি ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) এ অধ্যাপক সাদা দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তবে তার নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তাদের দাবি ছিল বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ডুয়েট থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক।

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ছিলেন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাউবির ট্রেজারার ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। নানা কারণে তাকে নিয়ে বিতর্ক আছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম। তিনি ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া গত ২৩ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো খায়রুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।

আরো পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য

গত ৭ জুন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মো. তোজাম্মেল হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব। এর আগে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য নিয়োগ পান অধ্যাপক বখতিয়ার।

গত ৮ জুন একযোগে চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়েছেন অধ্যাপক এমএম হেমায়েত জাহান। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্বের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ছিলেন। তিনি ইউট্যাবের সদস্য।

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক। নিজ বিভাগে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছিল।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষাবিদ, ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

এছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের অধ্যাপক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হানিফকে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি তিনটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্বল্প সময়ে দুই ভিসি পরিবর্তন

গত ১৪ মে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের আত্মীয় হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে ঘণ্টাখানেকের মাথায় তা বাতিল করা হয়।

একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জাবির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। তিনি যোগদানও করেছিলেন, কিন্তু ২৩ দিনের মাথায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার।

আরবি মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক প্রযুক্তি ভার্সিটির ভিসি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়েছেন রাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

এছাড়া শাবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আইনে এ ধরনের নিয়োগে বাধা না থাকলেও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক ভিসি নিয়োগ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম আমার দেশকে বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে পরিবর্তন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বা আইনগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সারা পৃথিবীতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কারা হবেনÑতার নীতিমালা আছে, সে ভিত্তিতে পরিশুদ্ধ পরিক্রমায় নিয়োগ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে গত অর্ধশতাব্দীতে তা হয়নি। ১/১১ সরকারের সময় একটা নীতিমালা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়েছিল, কিন্তু ড. ইউনূস সরকারের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষায় তেমন কোনো পরিমার্জন, নীতিমালা হয়নি। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘পাওয়ার এলিটদের’ মাধ্যমে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বামপন্থিরাও নিয়োগ পান। তদবিরের কাছে ‘নলেজ ইজ পাওয়ার’ বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত জিয়াউর রহমানের আদর্শ। জিয়াউর রহমানের সময় দলীয় বিবেচনার বাইরে যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্য দেখে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও আগামী দিনে যেন সব নিয়োগের ক্ষেত্রে সে নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে, আমরা তা-ই প্রত্যাশা করি।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিএনপির ইশতেহারে মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগে রাজনীতিকীকরণ

আপডেট সময় ০৪:৪৮:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নগ্ন দলীয়করণের রেকর্ড হয়েছিল পতিত আওয়ামী সরকারের সময়ে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর ফ্যাসিবাদের দোসর ও গণহত্যায় সহযোগী উপাচার্যদের সরিয়ে বা তাদের পদত্যাগের কারণে শূন্যপদে তুলনামূলক গ্রহণযোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। যদিও এসব উপাচার্যের মধ্যে দুয়েকজন জামায়াতপন্থি বা প্রকাশ্য রাজনৈতিক পরিচয়হীন থাকলেও বাকি সবাই ছিলেন বিএনপির অনুসারী বা সক্রিয় সদস্য।

চার বছরের জন্য এসব উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগপ্রাপ্ত হলেও দুঃখজনকভাবে দুই বছর মেয়াদ পূরণেরও সুযোগ পাননি তারা। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার এক মাসের মাথায় শুরু হয় উপাচার্য পরিবর্তন। ৫৯ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বাকিগুলোতেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্টরা টিকে থাকতে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও ট্রেজারার পদেও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, উপাচার্য ও অন্যান্য পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা-যোগ্যতার চেয়ে রাজনৈতিক বিবেচনাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে সরকার। এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবিসহ ভিন্ন বিভাগের শিক্ষককে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিজ প্রতিষ্ঠানে যোগ্য লোক থাকলেও অনেকক্ষেত্রে নিয়োগ পাচ্ছেন অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এসব কারণে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ ও সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। তাছাড়া কিছু বিতর্কিত শিক্ষকও নিয়োগ পাচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগের এক ঘণ্টার মাথায় তা বাতিল করা। একই ধরনের অভিযোগে ২৩ দিনের মাথায় জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়েছে।

এসব নিয়োগ নিয়ে খোদ বিএনপিপন্থি শিক্ষকসহ শিক্ষাবিশেষজ্ঞ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রতিবাদ, অস্বস্তি ও নানা সমালোচনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপাচার্য পদপ্রত্যাশী যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যেও হতাশা দেখা দিয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানপরবর্তীতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে এ ধরনের দলীয়করণের সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারা দুঃখজনক বলে কেউ কেউ মনে করেন। উপাচার্যের পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা তদারক প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়েও চাপা অসন্তোষ রয়েছে।

অবশ্য নতুন সরকার গঠনের পর পরিস্থিতি বুঝে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক এসএমএ ফায়েজ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পদত্যাগ করলে সেখানে সহজেই নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়।

বিএনপির ইশতেহারে মেধাভিত্তিক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি

ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, সুদীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হাজারো শহীদের রক্ত, জুলাইযোদ্ধাদের অসীম আত্মত্যাগ এবং শহীদ মায়েদের প্রত্যাশা আমাদের সামনে একটি অনিবার্য দায়িত্ব তুলে দিয়েছেÑএকটি বৈষম্যহীন, মেধাভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা, যার লক্ষ্য মানবিক, জনগণকেন্দ্রিক ও ইনসাফভিত্তিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। ইশতেহারের ‘নির্বাচনি অঙ্গীকার : প্রধান প্রতিশ্রুতি’ অংশে বলা হয়েছে, মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ নিশ্চিত করা হবে। শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন অংশে আরো বলা হয়েছে, বর্তমানে শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান নৈরাজ্য দূর করে নিম্ন ও মধ্যপর্যায়ে চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে।

তবে সম্প্রতি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে ইশতেহারের সে প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তবায়ন হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নিয়োগের সমালোচনা করে সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপ-উপাচার্য পদ থেকে অব্যাহতি পাওয়া ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন আমার দেশকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ফ্যাসিস্টদের তাড়িয়ে ভিসি, প্রোভিসি নিয়োগ দিয়েছিল। তাদের মেয়াদ পূরণের সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। কারণ তাদের কেউ ফ্যাসিস্ট ছিলেন না। কিন্তু বর্তমানে যে সার্চ কমিটির মাধ্যমে ভিসি, প্রোভিসি নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, তাদের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্যের সততা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। ফলে বিতর্কিত ব্যক্তিদের মাধ্যমে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

সার্চ কমিটির সুপারিশ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত সার্চ কমিটির সুপারিশের মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগের নিয়ম রয়েছে। ২০০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে তা পরিত্যক্ত হয়।

দীর্ঘ ১৬ বছর পর ২০২৫ সালের ১৮ মে অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরারকে প্রধান করে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে সুপারিশ প্রণয়নে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। তবে বাস্তবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়ে ওই কমিটির সুপারিশ ছাড়া সে প্রক্রিয়া আর পরে অনুসরণ করা হয়নি।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ১ এপ্রিল সার্চ কমিটি পুনর্গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ছয় সদস্যের এ কমিটিতে সভাপতি করা হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেককে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম, ইউজিসির একজন সদস্য ও ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান। কমিটিতে সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়)। এ সার্চ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্তভাবে উপাচার্য নিয়োগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

এদিকে স্বায়ত্তশাসিত ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য নিয়োগের মূল বিধান অনুযায়ী সিনেটে নির্বাচিত তিন সদস্যের প্যানেল থেকে একজনকে নিয়োগ দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে সে প্রক্রিয়াও ঠিকমতো অনুসরণ করা হয় না।

বর্তমান সরকারের সময়ে এ পর্যন্ত কতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তন করা হয়েছে বা আর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবর্তন হবে কি নাÑএমন তথ্য জানতে চাইলে সার্চ কমিটির সদস্য সচিব ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) মাহবুবুল হক পাটোয়ারী ১৮ জুন আমার দেশকে জানান, তিনি সম্প্রতি এ পদে যোগ দিয়েছেন, সার্চ কমিটিতে এখনো তার কাজের সুযোগ হয়নি। তাই ভিসি নিয়োগের সঠিক পরিসংখ্যান তাৎক্ষণিকভাবে তিনি জানাতে পারেননি। তবে কয়েক দফায় ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে।

একযোগে আট ভিসি পরিবর্তন, সমালোচনা

বিএনপি সরকার গঠনের এক মাসের মাথায় গত ১৬ মার্চ প্রথমবারের মতো একযোগে আট পাবলিক বিশ্ববিদালয়ের ভিসি পরিবর্তন করা হয়। একই দিনে পরিবর্তন করা হয় ইউজিসি চেয়ারম্যানও। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পরিবর্তন করা ইউজিসি চেয়ারম্যান ও উপাচার্যদের মেয়াদ মাত্র দেড় বছর না যেতেই তা অনেকটা গণহারে পরিবর্তন হওয়ায় বিরোধী দলসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে। দলীয় লোকদের বসাতেই কোনো কারণ ছাড়া আগের ভিসিদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেন। পরে দফা দফায় অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই ধরনের উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

সূত্রমতে, গত ১৬ মার্চ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য নিয়োগের কথা জানান। পরে সে নিয়োগের বিষয়ে ১৬ মার্চ স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনগুলো ১৭ মার্চ প্রকাশ করা হয়। এতে আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় যুক্ত হয়ে আটটিতে দাঁড়ায়। নতুন ভিসি নিয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আগের ভিসিদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।

এসব উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানিয়েছিলেন, নতুন উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের গবেষণা, প্রকাশনা, সাইটেশন, একাডেমিক যোগ্যতা, পিএইচডি, পোস্টডক ও সামগ্রিক একাডেমিক পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রত্যেক প্রার্থীর একাডেমিক রেকর্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, তাদেরই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপাচার্য নিয়োগ রাজনৈতিক বিবেচনায় দেওয়া হয়েছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী মিলন তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলেন, একজন লোকের রাজনীতি করা কি অপরাধ?

সূত্রমতে, এ পর্যন্ত নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যদের একজন সরাসরি বিএনপির পদে রয়েছেন। বাকিরা দলটির পেশাজীবী সংগঠনÑজিয়া পরিষদ, জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদ বা শিক্ষক সংগঠন সাদা দল ও ইউট্যাবের সাবেক ও বর্তমান নেতা।

১৬ মার্চ ঢাবির উপাচার্য নিযুক্ত হন জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক এবং জিয়া পরিষদের সহসভাপতি। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন পরিচালনায় জিয়া পরিষদের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারেও অংশ নেন তিনি।

একইভাবে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম রাবির জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি ছিলেন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হন ঢাবির কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের এ অধ্যাপক সাদা দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য থেকে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য হন জাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খান। বর্তমান সরকার গঠনের দুদিন আগে ১৫ ফেব্রুয়ারি এ পদে বুয়েটের অধ্যাপক মো. আবদুল হাছিবকে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক নুরুল ইসলাম খান জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভিসি হন বিশ্ববিদ্যালয়টির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। বিএনপিপন্থি এ শিক্ষক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এর আগে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমবার উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল তাকে অব্যাহতি দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। প্রায় এক বছর পর ফের নিয়োগ পান তিনি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য হন বিশ্ববিদ্যালয়টির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন। তিনি সাদা দলেরও সাধারণ সম্পাদক।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের এ অধ্যাপক এর আগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ছিলেন।

এদিকে ১৬ মার্চ ইউজিসি চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান ঢাবির সাবেক উপ-উপাচার্য ও বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক মামুন আহমেদ। তিনি বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এবং জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সভাপতি ছিলেন।

বিরোধী দলের কড়া সমালোচনা

একযোগে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পরিবর্তনের বিষয়ে কড়া সমালোচনা করে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। তাৎক্ষণিক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার অনেক যাচাই-বাছাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দিয়েছে। কিন্তু পদত্যাগ করিয়ে, সরকার দলান্ধ লোকদের পোস্টিং দিয়ে খুশি করার ব্যবস্থা নিয়েছে, যেটা নিন্দনীয় এবং জুলাইয়ের স্পিরিট-মেধার অবমাননা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ ‍উপাচার্য নিয়োগ

দ্বিতীয় দফায় গত ১৪ মে ১১ বিশ্ববিদ্যালয়ে চার বছরের জন্য নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। এর মধ্যে ১০টিতেই অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগ দেওয়া উপাচার্যদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। এ সময় বুয়েটের ১৬তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. একরামুল হক। তিনি তুলনামূলক অনেক জুনিয়র শিক্ষক বলে জানা গেছে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য পদে নিয়োগ পান লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে জিয়া পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী পেশাজীবী পরিষদে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি সাদা দলের আহ্বায়ক এবং ইউট্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে আছেন।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মামুন অর রশিদ। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ২০২৫ সালে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তাকে অপসারণ করা হয়েছিল।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম উপাচার্য হয়েছেন বিএনপিপন্থি ইউট্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএম শরীফুল করীম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হন জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। ঢাবি ইনস্টিটিউট অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড রিসার্চের (আইএসডব্লিউআর) এ অধ্যাপক সাদা দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) উপাচার্য হয়েছেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবাল। তবে তার নিয়োগ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তাদের দাবি ছিল বিশেষায়িত প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ডুয়েট থেকেই উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হোক।

রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী। এর আগে তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ছিলেন। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাউবির ট্রেজারার ও মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। নানা কারণে তাকে নিয়ে বিতর্ক আছে।

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম। তিনি ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এছাড়া গত ২৩ মে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ পান অধ্যাপক ড. মো খায়রুল ইসলাম। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন।

আরো পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য

গত ৭ জুন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ বখতিয়ার উদ্দিনকে অব্যাহতি দিয়ে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক মো. তোজাম্মেল হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি জিয়া পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব। এর আগে ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর উপাচার্য নিয়োগ পান অধ্যাপক বখতিয়ার।

গত ৮ জুন একযোগে চার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়েছেন অধ্যাপক এমএম হেমায়েত জাহান। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্বের অধ্যাপক এবং উপ-উপাচার্য ছিলেন। তিনি ইউট্যাবের সদস্য।

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। তিনি রাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক। নিজ বিভাগে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছিল।

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষাবিদ, ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতার।

এছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত গণিতের অধ্যাপক ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ হানিফকে লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবারের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হলেও বাকি তিনটিতে অন্তর্বর্তী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্তদের সরিয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়।

স্বল্প সময়ে দুই ভিসি পরিবর্তন

গত ১৪ মে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমানকে। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান আহমেদের আত্মীয় হওয়ায় তীব্র সমালোচনার মুখে ঘণ্টাখানেকের মাথায় তা বাতিল করা হয়।

একই দিনে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন জাবির পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। তিনি যোগদানও করেছিলেন, কিন্তু ২৩ দিনের মাথায় তাকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেয় সরকার।

আরবি মার্কেটিংয়ের অধ্যাপক প্রযুক্তি ভার্সিটির ভিসি

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হয়েছেন ঢাবির সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী। টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছেন ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদুল ইসলাম। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হয়েছেন রাবির আরবি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার।

এছাড়া শাবিপ্রবির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ও প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আইনে এ ধরনের নিয়োগে বাধা না থাকলেও বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া উচিত বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

বর্তমান সরকারের সাম্প্রতিক ভিসি নিয়োগ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল লতিফ মাসুম আমার দেশকে বলেন, যেকোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বে পরিবর্তন বা নিয়োগের ক্ষেত্রে নৈতিকতা বা আইনগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। সারা পৃথিবীতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান কারা হবেনÑতার নীতিমালা আছে, সে ভিত্তিতে পরিশুদ্ধ পরিক্রমায় নিয়োগ হয়। কিন্তু বাংলাদেশে গত অর্ধশতাব্দীতে তা হয়নি। ১/১১ সরকারের সময় একটা নীতিমালা মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হয়েছিল, কিন্তু ড. ইউনূস সরকারের সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী শিক্ষায় তেমন কোনো পরিমার্জন, নীতিমালা হয়নি। যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘পাওয়ার এলিটদের’ মাধ্যমে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে বিএনপি-জামায়াতের পাশাপাশি বামপন্থিরাও নিয়োগ পান। তদবিরের কাছে ‘নলেজ ইজ পাওয়ার’ বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

তিনি বলেন, আমাদের আদর্শ হওয়া উচিত জিয়াউর রহমানের আদর্শ। জিয়াউর রহমানের সময় দলীয় বিবেচনার বাইরে যোগ্যতা ও পাণ্ডিত্য দেখে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও আগামী দিনে যেন সব নিয়োগের ক্ষেত্রে সে নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে, আমরা তা-ই প্রত্যাশা করি।