ঢাকা ১১:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক শিবিরের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬
  • / ২৯ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নে শিবির নেতা হত্যার ঘটনার প্রতিবাদলিপি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির। এছাড়া রাত সাড়ে নয়টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে শেষ হবে মিছিলটি। সংগঠনটির ফেসবুক পেইজ থেকে বিষয়টি জানা যায়।

হত্যাকান্ডের প্রতিবাদলিপিতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আজ বিকাল আনুমানিক ৪টার কিছু পরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধের জেরে বিএনপির উগ্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর আকস্মিক হামলা চালাতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই ও বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি মীমাংসা করেন। এর কিছু সময় পর বোনারপাড়া চৌমাথায় অবস্থানকালে যুবদলের সন্ত্রাসী মুকুল, আশরাফ ও পলাশ অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ গলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার ঘটনা আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা এ নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাইবান্ধার এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির একশ্রেণির উগ্র নেতাকর্মী রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে, যা কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।”

নেতৃবৃন্দ বর্তমান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারের কার্যকর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবিরের কর্মী সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেই সাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ক্ষমতার মোহে বিএনপি দেশজুড়ে যে খুন, সন্ত্রাস, দখল ও অস্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে পুনরায় ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করছে, যদি তারা এসব কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে না ধরে, তবে অচিরেই তাদেরকেও পতিত ফ্যাসিস্টদের পরিণতি বরণ করতে হবে।”

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাইবান্ধায় শিবির নেতা হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক শিবিরের

আপডেট সময় ০৮:২৪:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নে শিবির নেতা হত্যার ঘটনার প্রতিবাদলিপি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবির। এছাড়া রাত সাড়ে নয়টায় বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে শাহবাগে শেষ হবে মিছিলটি। সংগঠনটির ফেসবুক পেইজ থেকে বিষয়টি জানা যায়।

হত্যাকান্ডের প্রতিবাদলিপিতে হত্যাকান্ডের প্রতিবাদ জানায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আজ বিকাল আনুমানিক ৪টার কিছু পরে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গভর্নিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মতবিরোধের জেরে বিএনপির উগ্র ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের ওপর আকস্মিক হামলা চালাতে উদ্যত হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই ও বোনারপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবির সভাপতি সাইফুল্লাহ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি মীমাংসা করেন। এর কিছু সময় পর বোনারপাড়া চৌমাথায় অবস্থানকালে যুবদলের সন্ত্রাসী মুকুল, আশরাফ ও পলাশ অতর্কিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ছাত্রশিবিরের ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ গলায় ছুরিকাঘাতে নিহত হন। একই ঘটনায় সালাহউদ্দিন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হন, যিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, “প্রকাশ্য দিবালোকে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করার ঘটনা আইনের শাসন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। আমরা এ নৃশংস ও পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গাইবান্ধার এই হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির একশ্রেণির উগ্র নেতাকর্মী রাষ্ট্রীয় সম্পদ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার এবং অস্ত্রের মহড়া প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জানমাল ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে, যা কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।”

নেতৃবৃন্দ বর্তমান দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা ও আইনের শাসন মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সারা দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড এবং ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণ, দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারের বিস্তারও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়েছে। সরকারের কার্যকর ভূমিকা ও নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং ক্ষেত্রবিশেষে রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে অপরাধীরা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।”

নেতৃবৃন্দ অনতিবিলম্বে গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবিরের কর্মী সাইফুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সকল সন্ত্রাসী ও খুনিদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। সেই সাথে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ক্ষমতার মোহে বিএনপি দেশজুড়ে যে খুন, সন্ত্রাস, দখল ও অস্ত্রের রাজনীতির মাধ্যমে পুনরায় ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করছে, যদি তারা এসব কর্মকাণ্ডের লাগাম টেনে না ধরে, তবে অচিরেই তাদেরকেও পতিত ফ্যাসিস্টদের পরিণতি বরণ করতে হবে।”