চাঁদাবাজি-লুটপাটের মামলায় ছেলেসহ কারাগারে বিএনপি নেতা
- আপডেট সময় ০৮:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
- / ২৯ বার পড়া হয়েছে
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় চাঁদাবাজি, লুটপাট, ভাঙচুর এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে বিচারক আয়েশা আক্তার তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বুধবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া।
আদালত ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা সোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। অভিযোগে বলা হয়, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় অবস্থিত সোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার সময় প্রতিষ্ঠানের মালামাল লুটপাট, নগদ অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি জোরপূর্বক দখলে নেওয়া হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী সোবহান মাদবর। মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরও দীর্ঘ সময় তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে গত এপ্রিল মাসে তারা হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন লাভ করেন।
জামিনের মেয়াদ শেষ হলে মঙ্গলবার তারা জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত শুনানি শেষে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বাদী সোবহান মাদবর বলেন, “আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে সেটি দখলে নেওয়া হয়। আমি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের শরণাপন্ন হয়েছি। আদালতের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী দিপু মিয়া বলেন, “আমার মক্কেলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। আদালত তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা আশা করছি, বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাদী ন্যায়বিচার পাবেন।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
























