ঢাকা ০৯:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘১৮ বছরে নির্যাতিত’ সবাই ভাতা ও বীরের মর্যাদা পাবেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৬:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম ও গুম-খুনে নির্যাতিতরা বীরের মর্যাদা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করছি। সেখানে বিগত আঠারো বছরের আন্দোলন সংগ্রামে যারা ছিলেন, গুম-খুন-নির্যাতিত প্রত্যেকে ওই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত হবেন। তারা স্বীকৃতি পাবেন, ভাতা পাবেন এবং বীরের মর্যাদা পাবেন।’

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনজীবীদের ওপর নির্যাতন’ শীর্ষক এক প্রামাণ্য চিত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের যিনি উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি জুলাই যোদ্ধার গেজেট বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। আমি সকলের কথা বিবেচনায় এনে মন্ত্রণালয় থেকে সেই জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট বন্ধ থেকে খুলে দিয়েছি। ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যারা জুলাই যোদ্ধা সকলে আবেদন করুন। আপনারা গেজেটভুক্ত হবেন, মূল্যায়িত হবেন। স্বীকৃতি পাবেন এবং আপনারা ভাতা পাবেন। আপনারা বাংলাদেশে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বীরের মতো থাকবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ গণ-অভ্যুত্থানকে জুলাইয়ের ৩৬ দিন বলা হয়। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই গণ-অভ্যুত্থান জুলাইয়ের ৩৬ দিনে হয়নি, পরিণতি হয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে। আমাদের রক্ত, ভাই-সহযোদ্ধাদের খুন, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার ক্ষোভে মানুষ জেগে উঠেছিল গণ-অভ্যুত্থানে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮ বছরে যারা নির্যাতনের স্বীকার, মামলায় যারা জর্জরিত ছিলেন, যারা গুম হয়েছেন, এটা বড় নির্মম। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে। আঠারো বছরে গুম-খুন -নির্যাতন বিরোধী একটি অধিদপ্তর আমরা প্রতিষ্ঠা করছি। ১৮ বছরে যারা নির্যাতিত, প্রত্যেকে ওই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত হবেন। তারা স্বীকৃতি পাবেন, ভাতা পাবেন এবং বীরের মর্যাদা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, সংস্কার শুরু হয়ে গেছে। গণভোটের রায় আমরা শুরু করে দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান সবার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের দল (বিএনপি) সবার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। আজকে অনেক বড় বড় কথা বলে এনসিপি। তারা কিন্তু জুলাই সনদে সাক্ষর করেনি। অনেক লড়াই করেছে! কাজেই আমরা এই জুলাই সনদের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম চলমান শুরু করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর বসে নেই। নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি বাংলাদেশের জন্যে।

এদিকে অনুষ্ঠানে ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগরের (এ্যানী) সঞ্চালনায় ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন, এম. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মো. খোরশেদ আলম, গোলাম মোস্তফা খান, মো. ইকবাল হোসেন, মো. খোরশেদ মিয়া আলমসহ ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বারের ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরী সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), দপ্তর সম্পাদক মো. আবজাল হোসাইন মৃধা ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খানসহ আরও নেতৃবৃন্দ।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

‘১৮ বছরে নির্যাতিত’ সবাই ভাতা ও বীরের মর্যাদা পাবেন: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫০:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম ও গুম-খুনে নির্যাতিতরা বীরের মর্যাদা পাবেন বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি বলেছেন, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করছি। সেখানে বিগত আঠারো বছরের আন্দোলন সংগ্রামে যারা ছিলেন, গুম-খুন-নির্যাতিত প্রত্যেকে ওই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত হবেন। তারা স্বীকৃতি পাবেন, ভাতা পাবেন এবং বীরের মর্যাদা পাবেন।’

সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে আইনজীবীদের ওপর নির্যাতন’ শীর্ষক এক প্রামাণ্য চিত্র অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে এ কথা বলেন মন্ত্রী।

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের যিনি উপদেষ্টা ছিলেন, তিনি জুলাই যোদ্ধার গেজেট বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। আমি সকলের কথা বিবেচনায় এনে মন্ত্রণালয় থেকে সেই জুলাই যোদ্ধাদের গেজেট বন্ধ থেকে খুলে দিয়েছি। ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যারা জুলাই যোদ্ধা সকলে আবেদন করুন। আপনারা গেজেটভুক্ত হবেন, মূল্যায়িত হবেন। স্বীকৃতি পাবেন এবং আপনারা ভাতা পাবেন। আপনারা বাংলাদেশে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে বীরের মতো থাকবেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ গণ-অভ্যুত্থানকে জুলাইয়ের ৩৬ দিন বলা হয়। কিন্তু আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এই গণ-অভ্যুত্থান জুলাইয়ের ৩৬ দিনে হয়নি, পরিণতি হয়েছে দীর্ঘ ১৮ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে। আমাদের রক্ত, ভাই-সহযোদ্ধাদের খুন, লাখ লাখ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলার ক্ষোভে মানুষ জেগে উঠেছিল গণ-অভ্যুত্থানে।

তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮ বছরে যারা নির্যাতনের স্বীকার, মামলায় যারা জর্জরিত ছিলেন, যারা গুম হয়েছেন, এটা বড় নির্মম। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছে। আঠারো বছরে গুম-খুন -নির্যাতন বিরোধী একটি অধিদপ্তর আমরা প্রতিষ্ঠা করছি। ১৮ বছরে যারা নির্যাতিত, প্রত্যেকে ওই অধিদপ্তরে গেজেটভুক্ত হবেন। তারা স্বীকৃতি পাবেন, ভাতা পাবেন এবং বীরের মর্যাদা পাবেন।

মন্ত্রী বলেন, সংস্কার শুরু হয়ে গেছে। গণভোটের রায় আমরা শুরু করে দিয়েছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান সবার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আমাদের দল (বিএনপি) সবার আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে। আজকে অনেক বড় বড় কথা বলে এনসিপি। তারা কিন্তু জুলাই সনদে সাক্ষর করেনি। অনেক লড়াই করেছে! কাজেই আমরা এই জুলাই সনদের মাধ্যমে সংস্কার কার্যক্রম চলমান শুরু করে দিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর বসে নেই। নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি বাংলাদেশের জন্যে।

এদিকে অনুষ্ঠানে ঢাকা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আবুল কালাম খানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক ইলতুতমিশ সওদাগরের (এ্যানী) সঞ্চালনায় ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি মো. বোরহান উদ্দিন, এম. মাসুদ আহমেদ তালুকদার, মো. খোরশেদ আলম, গোলাম মোস্তফা খান, মো. ইকবাল হোসেন, মো. খোরশেদ মিয়া আলমসহ ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বারের ট্রেজারার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান জুয়েল, লাইব্রেরী সম্পাদক খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ), দপ্তর সম্পাদক মো. আবজাল হোসাইন মৃধা ও ক্রীড়া সম্পাদক মো. সোহেল খানসহ আরও নেতৃবৃন্দ।