ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ মার্চ ২০২৬, ২১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

জামিনে বেরিয়েই জুলাইযোদ্ধাদের দেখে নেওয়ার হুমকি আ.লীগ নেতাদের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:২১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬
  • / ৯ বার পড়া হয়েছে

রংপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও সক্রিয়তায় শঙ্কায় আছেন জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মী জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আরো বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা করেছেন। পাশাপাশি পুলিশও বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসব মামলার কিছু আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় সরকার গঠিত হওয়ার পর এসব মামলার আসামিদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। জামিন পেয়েই আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে পুলিশকে জানিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। উল্টো পুলিশের অনেক কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাহস জোগাচ্ছেন। এছাড়া, বিএনপির অনেক নেতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও সহায়তা করছেন। এতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে সাহস পাচ্ছে জুলাই বিপ্লবে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিরা।

সূত্র জানায়, হত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদধারী নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে জামিনে এসে মামলার বাদী এবং সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর না থাকায় এবং পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী সরকারের সুবিধাভোগী হওয়ায় জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা নিরাপদে রয়েছেন। গঙ্গাচড়ায় প্রকাশ্যে দলীয় তৎপরতা চালাচ্ছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লাইবুল ইসলাম লেবু, কোষাধ্যক্ষ সোহারাব রাজু ও খালেকসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া, উপজেলার আরো ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা রয়েছে। কিন্তু তারা সবাই প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের ধরছে না পুলিশ।

পীরগাছায় পুলিশ ও বিএনপির নেতাদের যোগসাজশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ মিলন, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, কুদ্দুছ ভূঁইয়া ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টাকুয়া শফিকুল, অর্থের যোগানদাতা আব্দুর রহিম, ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও অপসারিত ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলমসহ অসংখ্য নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন। তারা শেখ হাসিনা ফিরে আসাসহ বিভিন্ন কথা বলে জুলাই আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্যদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। এতকিছুর পরও তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ ।

বদরগঞ্জে জুলাইযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার সাহা একাধিক মামলার আসামি হলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম পান্না, তাজুল ইসলাম, সাবেক এমপি ডিউক চৌধুরীর ভাই লিটন চৌধুরী, পলিন চৌধুরী এবং লিঙ্কন চৌধুরীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি বকুল, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শামীম মিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বিএনপি নেতাদের ওপর ভরসা রেখে মাঠ গোছাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধরবে না বলে নেতাকর্মীদের অভয় দিচ্ছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার আওয়ামী লীগের রাশেক রহমান ও পলাতক এমপি জাকির হোসেন নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার জন্য বিভিন্নভাবে উজ্জীবিত করছেন।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

জুলাই বিপ্লবের পক্ষে থাকা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের তেতরে এখনো আওয়ামী লীগের সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা এখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পক্ষে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকলেও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যারা সেই আদেশ অমান্য করছেন। তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না। এক্ষেত্রে ওসিদের সঙ্গে আসামিদের যোগসাজস এবং বিএনপি নেতাদের সুদৃষ্টি থাকায় প্রকাশ্যে ঘোরার সুযোগ পাচ্ছে আসামিরা।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, যারা আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছে, আহত করেছে, হত্যা করেছে এমন বিভিন্ন মামলার আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের না ধরে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এ কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমাদের পরিবারও এদের কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র তার আইনগতভাবে অপরাধীদের অবশ্যই ধরবে। যারা জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেভাবে নির্দেশনা আসে সেভাবেই পুলিশ কাজ করছে। কেউ কোনো অপরাধ সংগঠিত করুক বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা করুক অবশ্যই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরদের কোনো স্থান নেই। যারা অপরাধ করেছে বা অপরাধ করার চেষ্টা করবে- তাদেরকে পুলিশ অবশ্যই ধরবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মাঠ পর্যায়ে বলা হয়েছে। অবশ্যই পুলিশ তাদের ধরবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

জামিনে বেরিয়েই জুলাইযোদ্ধাদের দেখে নেওয়ার হুমকি আ.লীগ নেতাদের

আপডেট সময় ০৮:২১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

রংপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য চলাফেরা ও সক্রিয়তায় শঙ্কায় আছেন জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। আওয়ামী লীগের এসব নেতাকর্মী জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে মামলার বাদী ও সাক্ষীদের ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছেন এসব পরিবারের সদস্যরা। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় আরো বেশি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন তারা।

জুলাইযোদ্ধা ও শহীদ পরিবার সূত্রে জানা যায়, তারা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা করেছেন। পাশাপাশি পুলিশও বাদী হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহ ও নাশকতার মামলা করে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় এসব মামলার কিছু আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলীয় সরকার গঠিত হওয়ার পর এসব মামলার আসামিদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। জামিন পেয়েই আসামিরা বাদী ও সাক্ষীদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব বিষয়ে পুলিশকে জানিয়ে কোনো কাজ হচ্ছে না। উল্টো পুলিশের অনেক কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাহস জোগাচ্ছেন। এছাড়া, বিএনপির অনেক নেতা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও সহায়তা করছেন। এতে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে সাহস পাচ্ছে জুলাই বিপ্লবে হত্যাসহ বিভিন্ন মামলার আসামিরা।

সূত্র জানায়, হত্যাসহ বিভিন্ন গুরুতর মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের পদধারী নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যেই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। অনেকে জামিনে এসে মামলার বাদী এবং সাক্ষীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর না থাকায় এবং পুলিশের অনেক কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী সরকারের সুবিধাভোগী হওয়ায় জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতারা নিরাপদে রয়েছেন। গঙ্গাচড়ায় প্রকাশ্যে দলীয় তৎপরতা চালাচ্ছে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবলু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক লাইবুল ইসলাম লেবু, কোষাধ্যক্ষ সোহারাব রাজু ও খালেকসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়া, উপজেলার আরো ২০ থেকে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গঙ্গাচড়া মডেল থানায় মামলা রয়েছে। কিন্তু তারা সবাই প্রকাশ্যে ঘুরলেও তাদের ধরছে না পুলিশ।

পীরগাছায় পুলিশ ও বিএনপির নেতাদের যোগসাজশে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ মিলন, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান, কুদ্দুছ ভূঁইয়া ও উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি টাকুয়া শফিকুল, অর্থের যোগানদাতা আব্দুর রহিম, ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক ও অপসারিত ইউপি চেয়ারম্যান নুর আলমসহ অসংখ্য নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করেন। তারা শেখ হাসিনা ফিরে আসাসহ বিভিন্ন কথা বলে জুলাই আন্দোলনকারীদের পরিবারের সদস্যদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে। এতকিছুর পরও তাদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ ।

বদরগঞ্জে জুলাইযোদ্ধারা অভিযোগ করেন, সাবেক পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি উত্তম কুমার সাহা একাধিক মামলার আসামি হলেও পুলিশকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল করিম পান্না, তাজুল ইসলাম, সাবেক এমপি ডিউক চৌধুরীর ভাই লিটন চৌধুরী, পলিন চৌধুরী এবং লিঙ্কন চৌধুরীসহ অসংখ্য নেতাকর্মী প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি বিভিন্ন মামলার বাদী ও সাক্ষীদের নানাভাবে ভয় ভীতি দেখাচ্ছে।

জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সভাপতি বকুল, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র শামীম মিলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সংগঠিত করতে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা বিএনপি নেতাদের ওপর ভরসা রেখে মাঠ গোছাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ধরবে না বলে নেতাকর্মীদের অভয় দিচ্ছেন।

মিঠাপুকুর উপজেলার আওয়ামী লীগের রাশেক রহমান ও পলাতক এমপি জাকির হোসেন নেতাকর্মীদের সক্রিয় থাকার জন্য বিভিন্নভাবে উজ্জীবিত করছেন।

পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করলে যে কোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

জুলাই বিপ্লবের পক্ষে থাকা পুলিশের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পুলিশের তেতরে এখনো আওয়ামী লীগের সুবিধা নেওয়া কর্মকর্তার সংখ্যা অনেক বেশি। তারা এখনো আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের পক্ষে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ থাকলেও মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যারা সেই আদেশ অমান্য করছেন। তারা আসামিদের গ্রেপ্তার করছেন না। এক্ষেত্রে ওসিদের সঙ্গে আসামিদের যোগসাজস এবং বিএনপি নেতাদের সুদৃষ্টি থাকায় প্রকাশ্যে ঘোরার সুযোগ পাচ্ছে আসামিরা।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, যারা আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা চালিয়েছে, আহত করেছে, হত্যা করেছে এমন বিভিন্ন মামলার আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের না ধরে পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে। আমরা এ কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমাদের পরিবারও এদের কারণে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র তার আইনগতভাবে অপরাধীদের অবশ্যই ধরবে। যারা জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং প্রকৃতপক্ষে যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করতে হবে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী বলেন, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। যেভাবে নির্দেশনা আসে সেভাবেই পুলিশ কাজ করছে। কেউ কোনো অপরাধ সংগঠিত করুক বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার চেষ্টা করুক অবশ্যই পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

রংপুর রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম বলেন, অপরাধীরদের কোনো স্থান নেই। যারা অপরাধ করেছে বা অপরাধ করার চেষ্টা করবে- তাদেরকে পুলিশ অবশ্যই ধরবে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধরার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মাঠ পর্যায়ে বলা হয়েছে। অবশ্যই পুলিশ তাদের ধরবে।