ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাংনীতে বিএনপি নেতাকে গুলি, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আটক

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৮:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২৬ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান।

আহত মুকুল হোসেন সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং গ্রামের নেক মহাম্মদের ছেলে।

জানা গেছে, মুকুল হোসেনের মেরুদণ্ডে দুটি গুলি বিদ্ধ থাকায় সেগুলো বের করা সম্ভব হয়নি। এজন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

মুকুল হোসেনের ভাইপো ও ছাত্রনেতা আসমাউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘চাচার অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার্ড করেছেন। বর্তমানে তাকে নিয়ে ঢাকার পথে রয়েছে পরিবারের লোকজন।’

এদিকে আহত মুকুল হোসেন হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

তিনি সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আমির আলীর ছেলে আজমত আলী, বাবর আলীর ছেলে সমসের আলী এবং সাহারবাটি গ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান টোকনের নাম উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার পর দুপুরে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল সাহারবাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান টোকনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, ‘আওয়ামী লীগ নেতা টোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

এই হামলার ঘটনায় সাহারবাটি গ্রামে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় বোমা হামলা ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৫টার দিকে কাথুলি সড়কের সাহারবাটি ও ভাটপাড়ার মাঝামাঝি কাশেম মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের আধো আলোয় হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুকুল হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন। হামলাকারীরা প্রথমে ৩০ থেকে ৪০ গজ দূর থেকে তাকে দুটি গুলি করে। এরপর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, মুকুল হোসেনের শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী জানান, তার শরীরের সামনের অংশে দুটি এবং পেছনে তিনটি গুলি লেগেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা বক্কার আলী বলেন, ‘মুকুলের ওপর এর আগেও একাধিকবার বোমা হামলা করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবারো তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

ঘটনার পরপরই ওসি উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

গাংনীতে বিএনপি নেতাকে গুলি, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আটক

আপডেট সময় ০৮:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের বিএনপি নেতা মুকুল হোসেন দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় পাঠান।

আহত মুকুল হোসেন সাহারবাটি ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং গ্রামের নেক মহাম্মদের ছেলে।

জানা গেছে, মুকুল হোসেনের মেরুদণ্ডে দুটি গুলি বিদ্ধ থাকায় সেগুলো বের করা সম্ভব হয়নি। এজন্য উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হচ্ছে।

মুকুল হোসেনের ভাইপো ও ছাত্রনেতা আসমাউল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘চাচার অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার্ড করেছেন। বর্তমানে তাকে নিয়ে ঢাকার পথে রয়েছে পরিবারের লোকজন।’

এদিকে আহত মুকুল হোসেন হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছেন বলে জানা গেছে।

তিনি সাহারবাটি গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আমির আলীর ছেলে আজমত আলী, বাবর আলীর ছেলে সমসের আলী এবং সাহারবাটি গ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি আতাউর রহমান টোকনের নাম উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার পর দুপুরে গাংনী থানা পুলিশের একটি দল সাহারবাটি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা আতাউর রহমান টোকনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, ‘আওয়ামী লীগ নেতা টোকনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।’

এই হামলার ঘটনায় সাহারবাটি গ্রামে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে ওই এলাকায় বোমা হামলা ও বোমা উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৫টার দিকে কাথুলি সড়কের সাহারবাটি ও ভাটপাড়ার মাঝামাঝি কাশেম মোড় এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরের আধো আলোয় হঠাৎ চিৎকার শুনে তারা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে রাস্তার পাশে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুকুল হোসেনকে পড়ে থাকতে দেখেন। হামলাকারীরা প্রথমে ৩০ থেকে ৪০ গজ দূর থেকে তাকে দুটি গুলি করে। এরপর তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধাওয়া করে আরো কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, মুকুল হোসেনের শরীরে মোট পাঁচটি গুলি লেগেছে।

সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী জানান, তার শরীরের সামনের অংশে দুটি এবং পেছনে তিনটি গুলি লেগেছে।

স্থানীয় বিএনপি নেতা বক্কার আলী বলেন, ‘মুকুলের ওপর এর আগেও একাধিকবার বোমা হামলা করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। এবারো তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।’

ঘটনার পরপরই ওসি উত্তম কুমার দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।