ঢাকা ০৩:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তা

৩ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, স্থগিত সভাপতির পদ

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ৫৯ বার পড়া হয়েছে

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। অভিযুক্ত তিন নেতাকে বহিষ্কার ও এক নেতার পদ স্থগিতের পাশাপাশি সাবেক এক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না-এ মর্মে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার পরও তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন কি না, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক। ছাত্রদল কোনোভাবেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষক হেনস্তা

৩ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার, স্থগিত সভাপতির পদ

আপডেট সময় ০২:২৫:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের শারীরিক হেনস্তা, হত্যার হুমকি ও অধ্যক্ষের কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ। অভিযুক্ত তিন নেতাকে বহিষ্কার ও এক নেতার পদ স্থগিতের পাশাপাশি সাবেক এক সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) দুপুরে কলেজের সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে কলেজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর এবিএম ছানা উল্লাহ, শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় বর্তমান সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠে।

অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার খেতে বাধা দিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানের ওপর হামলা চালিয়ে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয়। এছাড়া ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

এছাড়া সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ ওঠায় কেন তার বিরুদ্ধে স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না-এ মর্মে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

এদিকে, শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছে নোয়াখালী সরকারি কলেজ শিক্ষক পরিষদ। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গৃহীত ব্যবস্থার পরও তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন কি না, তা এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জানা যায়নি।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

এ বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও দুঃখজনক। ছাত্রদল কোনোভাবেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।