ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ১৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে আরও অবনতি; ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১৯ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ শ্রেণিতে রয়েছে। সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা গত বছরের ১৪৯তম অবস্থানের তুলনায় তিন ধাপ অবনতি। যদিও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ১৬৫তম অবস্থানে ছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে দেশটিতে আবারও অবনতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৫৭তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকে শীর্ষ তিনটি দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। অন্যদিকে, সাত ধাপ অবনতি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম অবস্থানে নেমে গেছে। আরএসএফ-এর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণকে একটি ‘পদ্ধতিগত নীতিতে’ রূপান্তর করেছেন। এছাড়া গাজা ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার কঠোর সমালোচনা করে ইসরায়েলকে ১১৬তম অবস্থানে রাখা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ২২০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

আরএসএফ-এর সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১১০টি দেশেই সাংবাদিকতাকে বিভিন্নভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে রাশিয়া (১৭২), ইরান (১৭৭), মিশর (১৬৯) ও তুরস্কের (১৬৩) মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।

বোকান্দে এই পরিস্থিতির জন্য স্বৈরাচারী রাষ্ট্র, স্বার্থান্বেষী অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়ী করেছেন। আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে তিনি গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিকদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়; আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা মানেই বিষয়টিকে সমর্থন করা।’

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে আরও অবনতি; ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৭:০৯:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গত ২৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছে প্যারিসভিত্তিক সংস্থা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস (আরএসএফ)। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ইনডেক্স’ বা বিশ্ব সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচক অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি দেশ সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ‘কঠিন’ বা ‘খুবই উদ্বেগজনক’ শ্রেণিতে রয়েছে। সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫২তম, যা গত বছরের ১৪৯তম অবস্থানের তুলনায় তিন ধাপ অবনতি। যদিও ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ১৬৫তম অবস্থানে ছিল, তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নে দেশটিতে আবারও অবনতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ১৫৭তম অবস্থানে রয়েছে। সূচকে শীর্ষ তিনটি দেশ হলো নরওয়ে, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়া। অন্যদিকে, সাত ধাপ অবনতি হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ৬৪তম অবস্থানে নেমে গেছে। আরএসএফ-এর মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণকে একটি ‘পদ্ধতিগত নীতিতে’ রূপান্তর করেছেন। এছাড়া গাজা ও লেবাননে সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার কঠোর সমালোচনা করে ইসরায়েলকে ১১৬তম অবস্থানে রাখা হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ২২০ জনেরও বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

আরএসএফ-এর সম্পাদকীয় পরিচালক অ্যান বোকান্দে জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১১০টি দেশেই সাংবাদিকতাকে বিভিন্নভাবে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা বাড়ছে। বিশেষ করে রাশিয়া (১৭২), ইরান (১৭৭), মিশর (১৬৯) ও তুরস্কের (১৬৩) মতো দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন অব্যাহত রয়েছে।

বোকান্দে এই পরিস্থিতির জন্য স্বৈরাচারী রাষ্ট্র, স্বার্থান্বেষী অর্থনৈতিক গোষ্ঠী এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে দায়ী করেছেন। আন্তর্জাতিক আইনের দুর্বলতা এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে তিনি গণতান্ত্রিক সরকার ও নাগরিকদের আরও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়; আন্তর্জাতিক আইন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং দায়মুক্তির সংস্কৃতি জেঁকে বসেছে। এই পরিস্থিতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা মানেই বিষয়টিকে সমর্থন করা।’