ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাওরে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:২৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল। নতুন করে শনিবার সকালে উপজেলায় বোয়ালা হাওরে গুড়াডুবা উপ-প্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে গেছে।

এরআগে, শুক্রবারে কাইলানী উপ-প্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে শালদিঘা হাওরে পানি প্রবেশ উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও কৃষকদের চেষ্টায় ঠেকানো হয়। তবে জামগড়া খালের বাঁধ ভেঙে গেছে মঙ্গলবার। বুধবার বাঁধ ভেঙে জিনারিয়া হাওর তলিয়ে যায়।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যনগরের পাশ দিয়ে ভয়ে যাওয়া সোমেশরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপে মধ্যনগর মহিলা কওমী মাদরাসার পাশের কালভার্টের সামনের পাউবোর বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ শুরু হয়। পানির গতিতে পাশের মাদরাসাটি ধসে কবলে পড়তে শুরু করে। সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জড়ো হলেও বাঁধ আটকানোর কোনো উপায় হয়নি।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় ঘোষ জানান, কিভাবে মাদরাসাটি রক্ষা করা যায় কাজ করা হচ্ছে। হাওরে কোনো জমি কাটার বাকি নেই।

কৃষক মো. মুরাদ মিয়া জানান, বোয়ালা হাওরে তার এখনও ১৭ কেয়ার জমি কাটার বাকি ছিল।শনিবার সকালে ধান কাটা জন্য শ্রমিক নিয়ে হাওরেও গিয়েছিলেন। বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করার ফলে ধান কাটতে পারেননি। ধান কাটতে না পেরে এখন শ্রমিক নিয়ে তাকে ফেরত আসতে হয়েছে। এসময় তিনি বাঁধের অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে এই বাঁধের সাথে জড়িত পিআইসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

জিনারিয়া হাওরের কৃষক নিকেশ সরকার বলেন, ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করেছি। ধান পাকাই ছিল। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাটতে পারিনি। বাঁধ ভেঙে এখন আমার ২০ কাটা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব বুঝতেছি না।

কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকার কারণে আমার প্রায় ২২ কাটা জমির ধান তলিয়ে গেছে। ঋণ করে এই জমি চাষাবাদ করেছিলাম। এখন ঋণই পরিশোধ করব কিভাবে আর সংসারই চলবে কিভাবে তা বুঝতে পারছি না।

মধ্যনগর ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, বোয়ালা হাওরে ৬০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৪০০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েগেছে। তাছাড়া জলাবদ্ধতায় ১৩০ হেক্টর এবং কলমাকান্দার একটি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ৫০ হেক্টর জমি আগেই তলিয়ে গেছে। এই বাঁধ ভাঙার ফলে ২০ হেক্টর জমি ডুবে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, বোয়ালা হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় বাঁধও ভেঙেছে। এজন্য বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিল বিন রাহাত জানান, মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির মধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের মতো জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ জমি জলাবদ্ধতার কারণে আগেই তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাঁধ ভেঙে দুটি হাওরে ৩১ হেক্টরের মতো জমির ধান ক্ষতি হয়েছে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

হাওরে একের পর এক বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল

আপডেট সময় ০৪:২৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে একের পর এক ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে ডুবছে ফসল। নতুন করে শনিবার সকালে উপজেলায় বোয়ালা হাওরে গুড়াডুবা উপ-প্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে গেছে।

এরআগে, শুক্রবারে কাইলানী উপ-প্রকল্পের একটি বাঁধ ভেঙে শালদিঘা হাওরে পানি প্রবেশ উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও কৃষকদের চেষ্টায় ঠেকানো হয়। তবে জামগড়া খালের বাঁধ ভেঙে গেছে মঙ্গলবার। বুধবার বাঁধ ভেঙে জিনারিয়া হাওর তলিয়ে যায়।

জানা গেছে, টানা বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। মধ্যনগরের পাশ দিয়ে ভয়ে যাওয়া সোমেশরী নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির চাপে মধ্যনগর মহিলা কওমী মাদরাসার পাশের কালভার্টের সামনের পাউবোর বাঁধ ভেঙে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ শুরু হয়। পানির গতিতে পাশের মাদরাসাটি ধসে কবলে পড়তে শুরু করে। সকাল থেকে উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা জড়ো হলেও বাঁধ আটকানোর কোনো উপায় হয়নি।

এ সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জয় ঘোষ জানান, কিভাবে মাদরাসাটি রক্ষা করা যায় কাজ করা হচ্ছে। হাওরে কোনো জমি কাটার বাকি নেই।

কৃষক মো. মুরাদ মিয়া জানান, বোয়ালা হাওরে তার এখনও ১৭ কেয়ার জমি কাটার বাকি ছিল।শনিবার সকালে ধান কাটা জন্য শ্রমিক নিয়ে হাওরেও গিয়েছিলেন। বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি প্রবেশ করার ফলে ধান কাটতে পারেননি। ধান কাটতে না পেরে এখন শ্রমিক নিয়ে তাকে ফেরত আসতে হয়েছে। এসময় তিনি বাঁধের অনিয়ম হয়েছে জানিয়ে এই বাঁধের সাথে জড়িত পিআইসি ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।

জিনারিয়া হাওরের কৃষক নিকেশ সরকার বলেন, ধারদেনা করে জমি চাষাবাদ করেছি। ধান পাকাই ছিল। আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে কাটতে পারিনি। বাঁধ ভেঙে এখন আমার ২০ কাটা জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কিভাবে চলব বুঝতেছি না।

কৃষক আমিনুল ইসলাম বলেন, বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকার কারণে আমার প্রায় ২২ কাটা জমির ধান তলিয়ে গেছে। ঋণ করে এই জমি চাষাবাদ করেছিলাম। এখন ঋণই পরিশোধ করব কিভাবে আর সংসারই চলবে কিভাবে তা বুঝতে পারছি না।

মধ্যনগর ইউনিয়নের কৃষি উপ-সহকারী কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, বোয়ালা হাওরে ৬০০ হেক্টর জমির মধ্যে ৪০০ হেক্টর জমির ধান কর্তন করা হয়েগেছে। তাছাড়া জলাবদ্ধতায় ১৩০ হেক্টর এবং কলমাকান্দার একটি বাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে ৫০ হেক্টর জমি আগেই তলিয়ে গেছে। এই বাঁধ ভাঙার ফলে ২০ হেক্টর জমি ডুবে যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেছেন, বোয়ালা হাওরের ধান কাটা শেষ হয়ে গেছে। এমন সময় বাঁধও ভেঙেছে। এজন্য বাঁধ ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খলিল বিন রাহাত জানান, মধ্যনগরে ১৩ হাজার ৪৭০ হেক্টর জমির মধ্যে ১০ হাজার হেক্টরের মতো জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। এর মধ্যে ১৩ শতাংশ জমি জলাবদ্ধতার কারণে আগেই তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাঁধ ভেঙে দুটি হাওরে ৩১ হেক্টরের মতো জমির ধান ক্ষতি হয়েছে।