ঢাকা ০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে সংস্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ভন্ডামি’ আখ্যা হাসনাতের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৫:০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
  • / ২০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সম্প্রতি জনাব সালাউদ্দিন সাহেব সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন যে সরকার একটি দ্বীনতা বা দ্বিমুখী অবস্থানে ছিল। তারা তখন যা বলেছে সেটা মেনে নিয়েছে, শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়। এর মানে এটা এক ধরনের ভন্ডামি। সংসদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তারা নিজেরাই তাদের হিপোক্রেসি জাতির সামনে প্রকাশ করেছে।

রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপিট সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হয়ে গেছে যে, আমরা এখন নির্বাচিত হয়েছি, তাই মানুষের কথা শোনার আর সময় নেই —এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা নিজেদের প্রতারিত এবং বঞ্চিত মনে করছে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও আস্থা হারাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল, কারণ পুলিশকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পুলিশের পোস্টিং, প্রমোশন ও পদায়ন এখনো মন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এবং অনেক সত্য আড়াল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাতায়-কলমে আইনমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত হলেও বাস্তবে তার প্রভাবের মাধ্যমেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখনো এমন কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি যেখানে একজন বিচারক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ফেয়ার বিচার করতে পারেন। প্রশাসনিক কাঠামোতে কোনো স্ট্রাকচারাল রিফর্ম হয়নি, ফলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়ে গেছে।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই অবস্থার কারণে শুধু সাধারণ জনগণ নয়, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটাররাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছে। বিএনপির ভোটারদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যারা সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল তারাও এখন হতাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের এই ব্যর্থতার কারণে নাগরিকদের মধ্যে চিটেড ফিলিং তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।সংস্কার শুধু সংসদের ভেতরের বিষয় নয়। এটি একটি সামগ্রিক আন্দোলন, যা সংসদ এবং সংসদের বাইরেও সমানভাবে চালিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোতে যাতে আবারও কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা এককেন্দ্রিক ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসদে সংস্কার নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে ‘ভন্ডামি’ আখ্যা হাসনাতের

আপডেট সময় ০৫:০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, সম্প্রতি জনাব সালাউদ্দিন সাহেব সংসদে দাঁড়িয়ে স্বীকার করেছেন যে সরকার একটি দ্বীনতা বা দ্বিমুখী অবস্থানে ছিল। তারা তখন যা বলেছে সেটা মেনে নিয়েছে, শুধুমাত্র নির্বাচনটা যেন হয়ে যায়। এর মানে এটা এক ধরনের ভন্ডামি। সংসদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তারা নিজেরাই তাদের হিপোক্রেসি জাতির সামনে প্রকাশ করেছে।

রবিবার (৩ মে) রাজধানীর কাকরাইলে ইন্সটিটিউট অফ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে এনসিপিট সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে জাতীয় কনভেনশনে এসব কথা বলেন তিনি।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ‘সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি এমন হয়ে গেছে যে, আমরা এখন নির্বাচিত হয়েছি, তাই মানুষের কথা শোনার আর সময় নেই —এই মানসিকতা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর। বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকরা নিজেদের প্রতারিত এবং বঞ্চিত মনে করছে, একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও আস্থা হারাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের প্রয়োজন ছিল, কারণ পুলিশকে দীর্ঘদিন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে পুলিশের পোস্টিং, প্রমোশন ও পদায়ন এখনো মন্ত্রীর ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। বিচার বিভাগ ও প্রশাসনের কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, আইনমন্ত্রী সংসদে এমন বক্তব্য দিয়েছেন যা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, এবং অনেক সত্য আড়াল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘খাতায়-কলমে আইনমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত হলেও বাস্তবে তার প্রভাবের মাধ্যমেই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এখনো এমন কোনো কাঠামো তৈরি হয়নি যেখানে একজন বিচারক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে ফেয়ার বিচার করতে পারেন। প্রশাসনিক কাঠামোতে কোনো স্ট্রাকচারাল রিফর্ম হয়নি, ফলে পুরো রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়ে গেছে।’

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘এই অবস্থার কারণে শুধু সাধারণ জনগণ নয়, এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর ভোটাররাও নিজেদের প্রতারিত মনে করছে। বিএনপির ভোটারদের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যারা সংস্কারের প্রত্যাশা করেছিল তারাও এখন হতাশ।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের এই ব্যর্থতার কারণে নাগরিকদের মধ্যে চিটেড ফিলিং তৈরি হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য বিপজ্জনক।সংস্কার শুধু সংসদের ভেতরের বিষয় নয়। এটি একটি সামগ্রিক আন্দোলন, যা সংসদ এবং সংসদের বাইরেও সমানভাবে চালিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র কাঠামোতে যাতে আবারও কোনো স্বৈরতান্ত্রিক বা এককেন্দ্রিক ক্ষমতার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য জনগণকে সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’