‘পদ্মা ব্যারেজ’ নিয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৬:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি, সমীক্ষা ও সম্ভ্যবতা জরিপ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। বুধবার (৬ মে) সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে বৈঠকের পর পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সাংবাদিকদের একথা জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের স্টাডি রিপোর্ট,সমীক্ষা ও সম্ভাবত্য জরিপ শেষ হয়েছে, শিগগির প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক কমিশনের উপস্থাপন হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এই প্রজেক্টটা খুব শিগগিরিই একনেক সভায় উপস্থাপন হবে, আলোচনা হবে এবং সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।’
সকাল ১০টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পানি সম্পদ ব্যবস্থার এই সভা হয়। ঘণ্টাব্যাপী এই বৈঠকে খাল-খনন, শুষ্ক মৌসুমে কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিতকরণ, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি বলেন, ‘সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ক সভায় শুষ্ক মৌসুম পানি সমস্যা সমাধানের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা যাতে জমিতে সেচের সুবিধা পায়, সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’
ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকের পরে সাংবাদিকদের কাছে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন বাংলাদেশের সচেয়ে বড় প্রজেক্ট পদ্মা ব্যারেজ সেটার স্টাডি রিপোর্ট, কারিগরি দিক, সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। একনেক সভা যেদিন হবে সেদিন প্রকল্পটি উপস্থাপন হবে। তার আগ পর্যন্ত আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কি কি কাজ সম্পন্ন করা দরকার ইমিডিয়েট সেটা নিয়ে আমরা বিশেষ আলোচনা করেছি।’
কারণ হিসেবে মন্ত্রী বলেন, ‘এই পদ্মা ব্যারেজটি বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশ জনগণের সুবিধার্থে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগুরুত্বপূর্ণ বিধায় আমরা আমাদের যে নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে রাজশাহীতে এই প্রজেক্টটি নিয়ে কথা বলেছেন, প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রজেক্টে আমাদের নর্থ বেঙ্গলের প্রায় ২৪ জেলার জনসাধারণ খুব বেশি উপকৃত হবেন এবং সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যে এটা বাংলাদেশের জন্য খুবই প্রয়োজন। শুধু ইরিগেশন নয়, সকল দিক বিবেচনায় জনস্বার্থে এই প্রজেক্টটি সারা বাংলাদেশের পানির প্রবাহ সুগর্ভস্থ পানির লেভেল, মৎস চাষ এবং কৃষি প্রধান এলাকা হিসাবে সবদিকে সবাকে আমরা কীভাবে সমন্বয় করতে পারি সেই দিকে আমরা বিশেষ নজর দিয়েছি।’
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ছাড়াও তিস্তা প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রজেক্টটি নিয়েও প্রাথমিকভাবে আলোচনা হয়েছে। যেহেতু এটার ফিজিবিলিটি স্টাডি ইতিমধ্যে চলছে। আরও বেশি স্টাডি করতে হবে। কারিগরি দিক, সমীক্ষা সবকিছু বিবেচনা করে আমরা কি বেনিফিট দিয়ে ওই এলাকার মানুষ, দেশবাসীকে আমরা সম্পৃক্ত করব সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি।’
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, খাল-খনন কর্মসূচি চলমান রয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে চাঁদপুর ও ফেনীতে খাল-খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ মে চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী যাচ্ছেন। সেখানে অনেকগুলা কর্মসূচির মধ্যে খাল খনন কর্মসূচিও থাকছে এবং সেখানে তিনি খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। সারা বাংলাদেশে ইতিমধ্যে যেসব জেলা তিনি যাচ্ছেন খাল খনন কর্মসূচিকে প্রায়োরিটি দিচ্ছেন। আমরা আগামী পাঁচ বছরব্যাপী সারা বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। সে অনুযায়ী তিনি ইতিমধ্যে কয়েকটা জেলায় গিয়ে খনন কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী।’
মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মন্ত্রী-এমপি সাহেবরা সবাই যার যার এলাকায় এই কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। যেহেতু বর্ষাকাল প্রায় চলে এসেছে। হয়তোবা আমরা এই মে মাস পর্যন্ত এই কর্মসূচি কন্টিনিউ করতে পারবো। বর্ষা শেষে আবার আগামী নভেম্বর ডিসেম্বর জানুয়ারির দিকে আমরা এই খালখনন কর্মসূচি আমরা কন্টিনিউ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমের আগে মে মাসে প্রধানমন্ত্রী দুইটা জেলায় যাচ্ছেন সেটা হলো চাঁদপুর এবং ফেনী। ফেনীতে যাবেন ২৫ মে এবং চাঁদপুর যাচ্ছেন ১৬ মে।’























