ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তাও

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ২১ বার পড়া হয়েছে

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে অনেকে টোল দিচ্ছেন না, এ তালিকায় সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা থেকে সিডিএ-কে বের করে আনতে ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছি। জনবান্ধব ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিডিএ-কে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

বেলায়েত হোসেন বলেন, সিডিএর অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। নির্মাণ শেষ হলেও কয়েকটি আধুনিক মার্কেট চালু করা হয়নি। ফলে সেসব মার্কেট থেকে কোনো ভাড়া আদায় হচ্ছে না। আবার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকে টোল দিচ্ছেন না। এ তালিকায় সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিন সকালে প্রবর্তক মোড়, হিজরা খাল, কাপাসগোলা ও চাক্তাইসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি পাঁচটির কাজও প্রায় ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডিসেম্বরের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বহুতল ভবন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অতীতে চাক্তাই খাল নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হলেও আধুনিক স্লুইচ গেট নির্মাণের ফলে এটি এখন সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা করেন।

নগরবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই টোল না দিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকল্পকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে যানবাহন চলাচল বাড়ানোর পাশাপাশি সবার টোল পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। কন্ট্রোল রুম থেকে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক সম্পর্কে বেলায়েত হোসেন বলেন, এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট এড়িয়ে দ্রুত নগরে যাতায়াত করতে পারছেন। একই সঙ্গে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজট কমাতে এবং পণ্য পরিবহন সহজ করতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্ণফুলী নদীর তীরকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ করে এলাকাটিকে পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, সিডিএকে দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিচ্ছেন না সরকারি কর্মকর্তাও

আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করে অনেকে টোল দিচ্ছেন না, এ তালিকায় সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা থেকে সিডিএ-কে বের করে আনতে ‘যুদ্ধ’ শুরু করেছি। জনবান্ধব ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে সিডিএ-কে গড়ে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নগরের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সিডিএ চেয়ারম্যান।

বেলায়েত হোসেন বলেন, সিডিএর অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে। নির্মাণ শেষ হলেও কয়েকটি আধুনিক মার্কেট চালু করা হয়নি। ফলে সেসব মার্কেট থেকে কোনো ভাড়া আদায় হচ্ছে না। আবার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহার করেও অনেকে টোল দিচ্ছেন না। এ তালিকায় সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অতীতে বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিন সকালে প্রবর্তক মোড়, হিজরা খাল, কাপাসগোলা ও চাক্তাইসহ জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতাধীন বিভিন্ন খাল পরিদর্শন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। পরে কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক এবং শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প ঘুরে দেখেন।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পের আওতাধীন ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। বাকি পাঁচটির কাজও প্রায় ৬৮ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে ডিসেম্বরের মধ্যেই অবশিষ্ট কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বহুতল ভবন ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হয়েছে, যা সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অতীতে চাক্তাই খাল নগরবাসীর জন্য দুর্ভোগের কারণ হলেও আধুনিক স্লুইচ গেট নির্মাণের ফলে এটি এখন সুফল বয়ে আনবে বলে তিনি আশা করেন।

নগরবাসীর প্রতি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বেলায়েত হোসেন বলেন, খালে বর্জ্য ফেলা বন্ধ না হলে প্রকল্পের কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না।

শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকেই টোল না দিয়ে সড়কটি ব্যবহার করছেন। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রকল্পকে আর্থিকভাবে টেকসই করতে যানবাহন চলাচল বাড়ানোর পাশাপাশি সবার টোল পরিশোধ নিশ্চিত করতে হবে। কন্ট্রোল রুম থেকে টোল আদায়ের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

কালুরঘাট-চাক্তাই সংযোগ সড়ক সম্পর্কে বেলায়েত হোসেন বলেন, এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বিশেষ করে বোয়ালখালীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ যানজট এড়িয়ে দ্রুত নগরে যাতায়াত করতে পারছেন। একই সঙ্গে চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ এলাকার যানজট কমাতে এবং পণ্য পরিবহন সহজ করতে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্ণফুলী নদীর তীরকে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন সিডিএ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে সড়কটির কাজ শেষ করে এলাকাটিকে পর্যটকবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বেলায়েত হোসেন আরও বলেন, সিডিএকে দুর্নীতি, অবৈধ দখল ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর এবং পরিকল্পিত ও নান্দনিক নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করাই প্রধান লক্ষ্য। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।

পরিদর্শনকালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক ও সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহসীনুল হক, সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুল করিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।