ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এখন কি আমরা বলবো সবার আগে বগুড়া: সংসদে আতিক মোজাহিদ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেছেন, নিন্দুকেরা বলে— একসময় বলা হত সবার আগে গোপালগঞ্জ। এখন কি আমরা বলবো সবার আগে বগুড়া? আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। সবার আগে বাংলাদেশ হলে, প্রতিটা প্রান্তের মানুষের জন্য সমান ধরণের বাজেট থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ইদানিং নিন্দুকেরা বলে, নতুন একটা উপজেলার আবির্ভাব ঘটেছে—এটাকে নবাবী উপজেলা বলা হচ্ছে। আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলতেছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না, সেখানে এক উপজেলায়, কি এক ক্যারিশমেটিং মিরাকল সেখানে ৭৬ কোটি টাকা চলে যায়।

প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ঠ বরাদ্দ ও অস্ত্র থাকত, আধুনিক অস্ত্র থাকলে আমাদের লোক দিয়ে, একক কর্তৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ থেকে একটা ভাঙা ওয়ারলেস দেওয়া হয়েছিল। রাগ করে ফেলে দিয়ে ভারতীয় কমান্ডোকে তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র যখন দিবা, সরঞ্জামদি যখন দিবা, তখন এমন জিনিস দাও, যেটা ফাংশান করে, ডিসফাংশানাল দিও না, এটা আমাদের বাধাগ্রস্ত করে।

প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার বরাদ্দের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে আতিক মোজাহিদ বলেন, যার মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকাই পরিচালনা ব্যয়। বাকি সাত হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি আমাদের প্রতিরক্ষা হবে?

প্রতিরক্ষার আধুনিক অস্ত্র দিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সীমান্ত দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ এ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে তেমন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমাদের মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধ চলমান আছে। পার্বত্য তিনটি জেলায় তিনটা বিদ্রোহী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে, কু-কি চিনের বিরুদ্ধে আর্মির দুইটা ডিভিশন কাজ করছে।

আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মোজাহিদ। তিনি বলেন, ভারত জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়, মায়ানমার জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। পৃথিবীর সবদেশে গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু আমাদের সেটা নাই। এই আজাদী ভূমিকে রক্ষার জন্য যদি এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের সীমান্ত হুমকির মুখে আছে। আমাদের সবার দেশ রক্ষা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এখন কি আমরা বলবো সবার আগে বগুড়া: সংসদে আতিক মোজাহিদ

আপডেট সময় ০৮:০৩:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেছেন, নিন্দুকেরা বলে— একসময় বলা হত সবার আগে গোপালগঞ্জ। এখন কি আমরা বলবো সবার আগে বগুড়া? আমরা এই বাংলাদেশ চাই না। সবার আগে বাংলাদেশ হলে, প্রতিটা প্রান্তের মানুষের জন্য সমান ধরণের বাজেট থাকতে হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেন, ইদানিং নিন্দুকেরা বলে, নতুন একটা উপজেলার আবির্ভাব ঘটেছে—এটাকে নবাবী উপজেলা বলা হচ্ছে। আমি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কথা বলতেছি। যেখানে অন্যান্য এলাকায় বাজেট পায় না, সেখানে এক উপজেলায়, কি এক ক্যারিশমেটিং মিরাকল সেখানে ৭৬ কোটি টাকা চলে যায়।

প্রতিরক্ষা খাতের বাজেটের বিষয়ে তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যদি প্রতিরক্ষা খাতে যথেষ্ঠ বরাদ্দ ও অস্ত্র থাকত, আধুনিক অস্ত্র থাকলে আমাদের লোক দিয়ে, একক কর্তৃত্বে স্বাধীনতা অর্জন করতে পারতাম। রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান যুদ্ধের সময় ভারতের পক্ষ থেকে একটা ভাঙা ওয়ারলেস দেওয়া হয়েছিল। রাগ করে ফেলে দিয়ে ভারতীয় কমান্ডোকে তিনি বলেছিলেন, অস্ত্র যখন দিবা, সরঞ্জামদি যখন দিবা, তখন এমন জিনিস দাও, যেটা ফাংশান করে, ডিসফাংশানাল দিও না, এটা আমাদের বাধাগ্রস্ত করে।

প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার বরাদ্দের প্রস্তাবের কথা তুলে ধরে আতিক মোজাহিদ বলেন, যার মধ্যে ৩৫ হাজার কোটি টাকাই পরিচালনা ব্যয়। বাকি সাত হাজার কোটি টাকা দিয়ে কি আমাদের প্রতিরক্ষা হবে?

প্রতিরক্ষার আধুনিক অস্ত্র দিয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা দেওয়ার কথা তুলে ধরে এনসিপির এ সংসদ সদস্য বলেন, প্রতিদিন আমাদের বিভিন্ন সীমান্ত থেকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, বিভিন্ন সীমান্ত দখলের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ এ বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে তেমন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমাদের মিয়ানমার সীমান্তে যুদ্ধ চলমান আছে। পার্বত্য তিনটি জেলায় তিনটা বিদ্রোহী গোষ্ঠির বিরুদ্ধে, কু-কি চিনের বিরুদ্ধে আর্মির দুইটা ডিভিশন কাজ করছে।

আকাশ ও নৌ প্রতিরক্ষায় আধুনিক সরঞ্জাম প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন মোজাহিদ। তিনি বলেন, ভারত জিডিপির ২ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়, মায়ানমার জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। পৃথিবীর সবদেশে গড়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেয়। কিন্তু আমাদের সেটা নাই। এই আজাদী ভূমিকে রক্ষার জন্য যদি এক বেলা না খেয়েও থাকতে হয়, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিরক্ষা খাতে বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কারণ প্রতিনিয়ত আমাদের সীমান্ত হুমকির মুখে আছে। আমাদের সবার দেশ রক্ষা করতে হবে।