ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওলামা দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ২৩ বার পড়া হয়েছে

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটাতে গিয়ে ওলামা দল নেতাকে মারধর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাদুতলী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম সরদার (৪৮), কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান (৫২) এবং তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৪৬)। এর মধ্যে গুরুতর আহত কালাম সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওলামা দল নেতা আনিসুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রোববার রাতে ধাওয়া খেয়ে দোকানে আসেন সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদার। এসময় প্রায় বিশ জনের একটি দল তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কালামের ওপর হামলা চালায়। কিন্তু প্রাণ রক্ষায় কালাম দোকানের পেছনে আশ্রয় নেয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এসময় তার দোকান তছনছ করা হলে তিনি নিষেধ করায় তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।

তিনি আরও বলেন, পরে দোকান থেকে বের হয়ে দৌড়ে গিয়ে কালাম পিছনে আমার বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে গিয়ে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।

আনিছুর রহমানের স্ত্রী কালবেলাকে জানান, ঘরে নাতিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কালাম দৌড়ে এসে ঘরে ঢুকে দরজা দেয়। এরমধ্যেই ছেলেরা এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সাবেক কাউন্সিলরকে রড দিয়ে পেটায়। এসময় তিনি চিৎকার করলে তাকেও রড দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা।

তিনি বলেন, মারপিটের সময় আমার ছোট্ট নাতি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আমার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। আর বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করে হুমকি দিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী নারীর ছোট ভাই কলাপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন কালবেলাকে বলেন, আমার বোন-জামাতা ছোট থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তিনি ভদ্র ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ, তার ওপরও হামলা হয়েছে। আমার বোনকে জখম করেছে, লুটপাটও হয়েছে। আমি উপরস্থ দলীয় নেতাদের অবহিত করেছি। বাসায় ঢুকে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ পেটাতে গিয়ে দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাইম এবং মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ও অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লালসহ অন্তত ২০ জনের একটি দল এই হামলায় অংশ নেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে কলেজ ছাত্রদল নেতা বেল্লালের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিছু ভাঙচুরের আলামত দেখেছি। উপজেলা বিএনপি এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবতা যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতিকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

ওলামা দল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদল নেতা

আপডেট সময় ০৭:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতাকে পেটাতে গিয়ে ওলামা দল নেতাকে মারধর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে কলাপাড়া পৌর শহরের ৯ নং ওয়ার্ডের বাদুতলী এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলায় আহতরা হলেন- ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক কালাম সরদার (৪৮), কলাপাড়া পৌর ওলামা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছুর রহমান (৫২) এবং তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৪৬)। এর মধ্যে গুরুতর আহত কালাম সরদারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী ওলামা দল নেতা আনিসুর রহমান কালবেলাকে বলেন, রোববার রাতে ধাওয়া খেয়ে দোকানে আসেন সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদার। এসময় প্রায় বিশ জনের একটি দল তার প্রতিষ্ঠানে ঢুকে কালামের ওপর হামলা চালায়। কিন্তু প্রাণ রক্ষায় কালাম দোকানের পেছনে আশ্রয় নেয়। সেখানে তাকে মারধর করা হয়। এসময় তার দোকান তছনছ করা হলে তিনি নিষেধ করায় তাকেও মারধর করে হামলাকারীরা।

তিনি আরও বলেন, পরে দোকান থেকে বের হয়ে দৌড়ে গিয়ে কালাম পিছনে আমার বাসায় আশ্রয় নেয়। সেখানে গিয়ে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে।

আনিছুর রহমানের স্ত্রী কালবেলাকে জানান, ঘরে নাতিকে ভাত খাওয়াচ্ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ কালাম দৌড়ে এসে ঘরে ঢুকে দরজা দেয়। এরমধ্যেই ছেলেরা এসে দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে সাবেক কাউন্সিলরকে রড দিয়ে পেটায়। এসময় তিনি চিৎকার করলে তাকেও রড দিয়ে আঘাত করে হামলাকারীরা।

তিনি বলেন, মারপিটের সময় আমার ছোট্ট নাতি জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। আর বাসার আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আমার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় হামলাকারীরা। আর বিশ্রী ভাষায় গালমন্দ করে হুমকি দিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী নারীর ছোট ভাই কলাপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন কালবেলাকে বলেন, আমার বোন-জামাতা ছোট থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং তিনি ভদ্র ও উচ্চশিক্ষিত মানুষ, তার ওপরও হামলা হয়েছে। আমার বোনকে জখম করেছে, লুটপাটও হয়েছে। আমি উপরস্থ দলীয় নেতাদের অবহিত করেছি। বাসায় ঢুকে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্যমতে, আওয়ামী লীগ পেটাতে গিয়ে দোকান ও বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে। কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাইম এবং মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস ও অনার্স কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লালসহ অন্তত ২০ জনের একটি দল এই হামলায় অংশ নেয় বলে জানান স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে জানতে কলেজ ছাত্রদল নেতা বেল্লালের মোবাইল নম্বরে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম তুষার বলেন, খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। কিছু ভাঙচুরের আলামত দেখেছি। উপজেলা বিএনপি এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবতা যাচাই করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রদলের সভাপতিকে সেখানে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কলাপাড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা ইলিয়াস হোসেন বলেন, অসুস্থ নারীকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।