মাইকে ঘোষণা দিয়ে পুলিশের ওপর আ.লীগ নেতাদের হামলা
- আপডেট সময় ০২:৩২:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
- / ২১ বার পড়া হয়েছে
পাবনার সুজানগরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর করা হয়েছে পুলিশের গাড়ি। এতে সুজানগর থানার ওসি ও এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মথুরাপুর এলাকার দোপপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- সুজানগর থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ও কনস্টেবল সবুজ। তারা বর্তমানে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের একটি বিশেষ ম্যাচ থাকায় ভোররাত পর্যন্ত মথুরাপুর এলাকায় ফুটবল উন্মাদনা ও আমেজ বিরাজ করছিল। পুলিশের কাছে গোপন সংবাদ ছিল, এ সুযোগ ব্যবহার করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা সেখানে মিছিল বা নাশকতার পরিকল্পনা করছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুটি গাড়িতে পুলিশের একটি সাধারণ টহল দল মথুরাপুরের দোপপাড়া এলাকায় যায়।
পুলিশের দাবি, সেখানে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিত দেখে স্থানীয় একটি মসজিদের মাইক থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। এতে ওই দলের শতাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে আরও কয়েকশ সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সুজানগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুল ওহাবের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে ও নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।
তবে পুলিশের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন সুজানগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব। তিনি বলেন, পুলিশের অভিযানের কারণে আমি নিজেই এলাকায় যেতে পারি না, সেখানে উপস্থিত থাকার প্রশ্নই আসে না। আমি যতটুকু জেনেছি, রাতে খেলা দেখার পর স্থানীয় যুবকেরা সেখানে খিচুড়ি রান্না করে খাচ্ছিল। এ সময় পুলিশ গিয়ে ১০-১৫ জনকে আটক করলে স্থানীয় বাসিন্দা ও নারীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তাদের ছাড়িয়ে নেয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে পুলিশের গাড়িতে আঘাত লাগে এবং দুজন পুলিশ সদস্য আহত হন বলে শুনেছি।
পাবনার পুলিশ সুপার মো. ছুফি উল্লাহ বলেন, হামলা চালিয়ে ওসিসহ দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করা হয়েছে। তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।



















