ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যবিপ্রবিতে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৮:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫ বার পড়া হয়েছে

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি: প্রমাণ, হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত প্রভাব” ((Micronutrient Deficiencies among Adolescent Girls in Bangladesh: Evidence, Interventions and Policy Implications) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২ টায় যবিপ্রবির অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ ও যবিপ্রবি রিসার্চ সেলের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রি-র পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের মতো প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাব, এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তা নিরসনে সঠিক নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব, তা ড. ফারুক আহমেদ প্রমাণ করেছেন। গবেষণা সফল করতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে গবেষণালদ্ধ ফলাফল কেবল কাগজে নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের পলিসি বা নীতি নির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে। সেই সাথে দেশীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উপাত্ত নিয়ে মানসম্পন্ন টেক্সটবুক রচনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, কৈশোরকালীন মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা কেবল তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি আরও জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১% নারী তার মধ্যে ৩৮% নারী কর্মক্ষম যারা একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ও পরিবার গঠনে অবদান রাখছেন। তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এসব গবেষণালদ্ধ তথ্য ও সুপারিশমালা সরকারের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানোর জোর আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সেমিনারে আহবায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার। এছাড়াও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজ উদ্দীন মনির। সেমিনারে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা-তুজ-জোহরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

যবিপ্রবিতে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি নিয়ে সেমিনার অনুষ্ঠিত

আপডেট সময় ০৮:২৯:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) বাংলাদেশে কিশোরী মেয়েদের অণুপুষ্টির ঘাটতি: প্রমাণ, হস্তক্ষেপ এবং নীতিগত প্রভাব” ((Micronutrient Deficiencies among Adolescent Girls in Bangladesh: Evidence, Interventions and Policy Implications) শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২ টায় যবিপ্রবির অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ ও যবিপ্রবি রিসার্চ সেলের যৌথ উদ্যোগে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব মেডিসিন অ্যান্ড ডেন্টিস্ট্রি-র পাবলিক হেলথ বিভাগের অধ্যাপক ড. ফারুক আহমেদ। তিনি তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের কিশোরী মেয়েদের ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের মতো প্রয়োজনীয় অণুপুষ্টির অভাব, এর দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং তা নিরসনে সঠিক নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও যে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব, তা ড. ফারুক আহমেদ প্রমাণ করেছেন। গবেষণা সফল করতে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। তবে গবেষণালদ্ধ ফলাফল কেবল কাগজে নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে সরকারের পলিসি বা নীতি নির্ধারণে কাজে লাগাতে হবে। সেই সাথে দেশীয় পুষ্টি ও স্বাস্থ্য উপাত্ত নিয়ে মানসম্পন্ন টেক্সটবুক রচনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান বলেন, কৈশোরকালীন মেয়েদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষা করা কেবল তাদের ব্যক্তিগত বিষয় নয়, বরং এটি দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তিনি আরও জানান, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫১% নারী তার মধ্যে ৩৮% নারী কর্মক্ষম যারা একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে ও পরিবার গঠনে অবদান রাখছেন। তাই এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীর পুষ্টিহীনতা দূর করা অত্যন্ত জরুরি। এসব গবেষণালদ্ধ তথ্য ও সুপারিশমালা সরকারের নীতি নির্ধারণে কাজে লাগানোর জোর আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন যবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান ও ফলিত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। সেমিনারে আহবায়ক হিসেবে বক্তব্য রাখেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শিরিন নিগার। এছাড়াও বক্তব্য দেন যবিপ্রবির রিসার্চ সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিনহাজ উদ্দীন মনির। সেমিনারে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা-তুজ-জোহরা।