জামায়াতের নারী এমপি তালিকায় রাশেদ প্রধানের বোন, ডা মিতু ও জুলাই শহীদের মা
- আপডেট সময় ০৮:০০:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ২৪ বার পড়া হয়েছে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতের সংরক্ষিত নারী আসনে তিনজনের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। তারা হলেন— জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এবং একজন জুলাই শহীদের মা। জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্য দলীয় কোটায় এই তিনজনের মনোনয়নের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাসমিয়া প্রধান জাগপার রাশেদ প্রধানের বোন। জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নিসা সিদ্দিকা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী জাতীয় সংসদে ১৩টি আসন পাবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। যার মধ্যে ১২টি জামায়াতে ইসলামীর এবং ১টি আসন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির। জামায়াতের এই ১২টি আসন থেকে এ পর্যন্ত তিনটি চূড়ান্ত হয়েছে।
নুরুন্নিসা সিদ্দিকা বলেন, আমরা মহিলা বিভাগের পক্ষ থেকে আমীরে জামায়াতের কাছে একটি তালিকা দিয়েছি। জামায়াতের ১২টি আসন থেকে এনসিপি নেত্রী মিতু, জাগপা চেয়ারম্যান তাসমিয়া প্রধান এবং একজন জুলাই শহীদের মাকে চূড়ান্ত করেছে নির্বাহী পরিষদ। বাকি ৯টি আসনের চূড়ান্ত নাম ২১ তারিখে জানা যাবে। তবে এটুকু নিশ্চিত, একই পরিবার থেকে দুইজন সংসদ সদস্য হচ্ছেন না। যেমন: ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মেয়ে।
তিনি আরও জানান, আমাদের নীতিগত জায়গা থেকে আমরা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২১ তারিখে চূড়ান্ত নমিনেশন পেপার সাবমিট হবে। নির্বাহী পরিষদ যাদের চূড়ান্ত করবেন কেবলমাত্র তারাই নমিনেশন পেপার সাবমিট করবেন। আমাদের একই পরিবারেই যোগ্য ব্যক্তি ছিল। তবে আমরা পরিবারতন্ত্র চাই না। তাই একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি সংসদ সদস্য হচ্ছেন না। তার মানে এই না একই পরিবারের যারা রয়েছেন তারা যোগ্য নয়। প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক যোগ্যতার পাশাপাশি বক্তব্যে পারদর্শী নারী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ৬টি পুরুষ আসনের বিপরীতে ১টি করে নারী আসন পেয়ে থাকে দলগুলো। সে হিসাবে জামায়াত জোটের প্রাপ্ত ১৩টি আসনের ১২টিই জামায়াতে ইসলামীর এবং অবশিষ্ট ১টি আসন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির পাওয়ার কথা রয়েছে। পর্যাপ্ত আসনে বিজয়ী হয়ে আসতে না পারায় অন্য ৯টি দলের কারোই সংরক্ষিত নারী আসন পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে জোটের স্বার্থে নিজেদের প্রাপ্ত আসন থেকে জামায়াত কিছুটা ছাড় দিয়েছে।
জোট শরীক ও জুলাই শহীদ পরিবারকে তিনটি আসন ছেড়ে জামায়াতের নিজেদের জন্য রাখছে ৯টি আসন। এসব আসনের জন্য নির্ধারিত প্রার্থীর তালিকায় দীর্ঘদিন ধরে মহিলা জামায়াতের নেতৃত্ব দেওয়া দলের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মারজিয়া বেগম, জামায়াতের প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আখন্দের স্ত্রী এবং মহিলা জামায়াতের আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সাবিকুন নাহার মুন্নি, আলোচিত টকশো ব্যক্তিত্ব মারদিয়া মমতাজের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বাইরে চট্টগ্রাম, সিলেট ও বগুড়া থেকে একজন করে আঞ্চলিক নারী নেত্রীর নাম সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনীত সংসদ সদস্যের তালিকায় রয়েছে।

















