চট্টগ্রামে মন্দির দখল নিয়ে ইসকনের সঙ্গে সাধারণ হিন্দুদের সংঘর্ষ
- আপডেট সময় ০২:১৬:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
- / ৩০ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রাম নগরীর নন্দনকানন এলাকায় ইসকনের সঙ্গে সাধারণ হিন্দুদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার ভোর ৪টায় ইসকনের বিরুদ্ধে হিন্দুদের জমি ও মন্দির জবরদখলের চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইসকনের লোকজন এবং স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ঘটনায় কমপক্ষে চারজন আহত হয়েছেন এবং একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টায় ইসকনের একদল লোক নন্দনকানন এলাকার লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন জায়গায় প্রবেশের চেষ্টা করে। সেই সময় এলাকার সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের সঙ্গে তাদের বাদানুবাদ শুরু হয়, যা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। ওই সময় মন্দির এলাকায় একটি কক্ষ ভাঙচুর করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
নগর পুলিশের (দক্ষিণ বিভাগ) উপ-কমিশনার হোসাইন কবির ভূঁইয়া, মূলত লোকনাথ মন্দির নিয়ে ইসকন ও অন্য সাধারণ হিন্দুদের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। ইসকন রাতের বেলা এলাকায় ঢুকলে সাধারণ হিন্দুদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। আমরা অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লোকনাথ মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় কিছু খাসজমি রয়েছে, যেটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসকন এবং স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইসকন পর্যায়ক্রমে এই এলাকার জমি ও মন্দির নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে এলাকার সাধারণ হিন্দুরা মনে করেন, এই জমি ও মন্দির তাদের নিজস্ব ধর্মীয় সম্পদ, যেটিতে বাইরের কোনো সংগঠনের হস্তক্ষেপ তারা মানবেন না।
ইসকনের বিরুদ্ধে আগেও চট্টগ্রামে অবৈধভাবে জমি দখল ও মন্দিরের নাম ব্যবহার করে অনুদান সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় প্রবর্তক সংঘ চট্টগ্রামের নেতারা বলেন, গেরুয়া বসনধারী ইসকন নামধারীরা পেশিশক্তি ব্যবহার করে জমি দখল করছে এবং যৌথ চুক্তি অমান্য করা ও পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক পরিবেশ পরিবর্তন করার অভিযোগও আনা হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। দুই পক্ষকেই পুলিশের পক্ষ থেকে সংযম বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। সংঘর্ষে আহত চারজনকে নিকটস্থ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।
ঘটনার পর থেকে নন্দনকানন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন জানিয়েছেন, তারা তাদের মন্দির ও ভূসম্পত্তি রক্ষায় সব সময় সজাগ থাকবেন। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহল অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশ (দক্ষিণ) জানিয়েছে, উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং বিরোধের স্থায়ী সমাধানে প্রশাসন সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।




















