ঢাকা ০৫:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটির এক স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পোস্টে তিনি নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজের ও সহকর্মীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ পলি রানী ঘোষ নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই আবেদন লিখছি।

সম্প্রতি হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং একজন মা হিসেবে এই ঘটনা আমাকে গভীর কষ্ট দিয়েছে। আমি নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

পোস্টে পলি রানী ঘোষ উল্লেখ করেন, আমি ঢাকা আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে গত ১৪ বছর ধরে সিনিয়র স্টাফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছি।

এই দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়ে আসছি। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে, যা আমি আমার দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য হিসেবে পালন করেছি।

তিনি বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি এবং আমার মতো হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আমাদের অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, পরিবার রয়েছে, যাদের জীবন-জীবিকা এই চাকরির উপর নির্ভরশীল।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, আমার ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। আমার পরিবার সম্পূর্ণভাবে আমার আয়ের উপর নির্ভরশীল। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আমি আজ অসহায় বোধ করছি।

একজন কর্মজীবী মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা।

পলি রানী ঘোষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত আবেদন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ও কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে শুধু আমার মতো কর্মচারীরাই নয়, হাজারো রোগীও আবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আমাদের সকলের জীবনে আশার আলো হয়ে আসবে এবং আপনার একটি মানবিক সিদ্ধান্ত হাজারো পরিবারের মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের জবাব দিলেও সরকার তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লাইসেন্স বাতিল হলেও পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের পর স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট ভাইরাল

আপডেট সময় ০২:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল এবং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে হাসপাতালটির এক স্বাস্থ্যকর্মীর আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পোস্টে তিনি নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিজের ও সহকর্মীদের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেছেন।

শুক্রবার (১২ জুন) আদ্-দ্বীন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ পলি রানী ঘোষ নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই আবেদন লিখছি।

সম্প্রতি হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং একজন মা হিসেবে এই ঘটনা আমাকে গভীর কষ্ট দিয়েছে। আমি নিহত শিশুদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

পোস্টে পলি রানী ঘোষ উল্লেখ করেন, আমি ঢাকা আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালে গত ১৪ বছর ধরে সিনিয়র স্টাফ হিসেবে নিষ্ঠার সাথে কর্মরত আছি।

এই দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়ে আসছি। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০ জন রোগীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ আমার হয়েছে, যা আমি আমার দায়িত্ব ও মানবিক কর্তব্য হিসেবে পালন করেছি।

তিনি বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে আমি এবং আমার মতো হাজারো কর্মকর্তা-কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছি। আমাদের অনেকেরই ছোট ছোট সন্তান রয়েছে, পরিবার রয়েছে, যাদের জীবন-জীবিকা এই চাকরির উপর নির্ভরশীল।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, আমার ছোট দুটি সন্তান রয়েছে। আমার পরিবার সম্পূর্ণভাবে আমার আয়ের উপর নির্ভরশীল। চাকরি হারানোর আশঙ্কায় আমি আজ অসহায় বোধ করছি।

একজন কর্মজীবী মা হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হলো আমার সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা।

পলি রানী ঘোষ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আবেদন জানিয়ে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার বিনীত আবেদন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে আদ্ব-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স ও কার্যক্রম পুনরায় চালুর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। এতে শুধু আমার মতো কর্মচারীরাই নয়, হাজারো রোগীও আবার প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাবে।

পোস্টের শেষাংশে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের কল্যাণ ও স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত আমাদের সকলের জীবনে আশার আলো হয়ে আসবে এবং আপনার একটি মানবিক সিদ্ধান্ত হাজারো পরিবারের মুখে আবার হাসি ফিরিয়ে আনতে পারে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে রাজধানীর মগবাজারের আদ্–দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

এ ছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানাতে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শেখ মহিউদ্দিনকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ জন্য তাকে ৭ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নোটিশের জবাব দিলেও সরকার তাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লাইসেন্স বাতিল হলেও পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বাতিল আদেশের বিরুদ্ধে সরকারের কাছে আপিল বা পুনর্বিবেচনা করার আইনি সুযোগ রেখেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।