ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিস্তা সংকট সমাধানে ভারতের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারি না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ১৪ বার পড়া হয়েছে

তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি ‘জীবন-মরণ’ সমস্যা। এই সংকটের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের অপেক্ষায় বসে থাকতে চায় না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর বদলে এই অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।

চীন সফরে যাওয়ার আগে মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জানান, তাঁর এই সরকারি সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ‘অবশ্যই’ আলোচনা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা আগের বাধাগুলো দূর হতে পারে কি না এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ঢাকা এখনও আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ভারত পদক্ষেপ নেবে সেই আশায় বাংলাদেশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার গঠিত হয়নি। তারা কী ভাবছে বা কী করবে তা তারাই বলতে পারবে। তাদের মনের কথা পড়া আমার কাজ নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি তখনকার সময়ে পৌঁছানো ঐকমত্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও ‘বিবেচনা’ করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা শুধু সেটার জন্য বসে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদেরও কাজ আছে।’

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রীরা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তিটি সই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তা আটকে যায়।

ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশা জাগলেও মমতার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পানি বণ্টন চুক্তিটি ঝুলে থাকায় বাংলাদেশ ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ শুরু করে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের সময় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল যে তিনি এই প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু কাজে চীনের সহায়তা চেয়েছেন। সে সময় বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দূর করার ব্যবস্থা থাকবে।

ভারত এই প্রকল্প কোনো চীনা কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার মধ্যেই বেইজিং প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা সফরের সময় ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। পরের মাসে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দিল্লি আবারও তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখায়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন যে ভারতের একটি প্রযুক্তিগত দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।

এর প্রায় এক মাস পর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি এখন ক্ষমতায় এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি ও উন্নয়ন প্রকল্প—উভয় বিষয়ই অমীমাংসিত থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে বেইজিং গেছেন। সেখানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি চীনের রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলনের চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও তাঁর দেখা করার কথা রয়েছে।

সফরের উদ্দেশ্য ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে জানতে চাইলে রহমান বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু, যাদের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব রয়েছে। নতুন সরকারের এটিই প্রথম চীন সফর।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই সফরে আমরা দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর, দ্রুত ও বিস্তৃত করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে অনেক খাতে বড় বড় প্রকল্পে কাজ করছি। এই সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে নেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। তারা এ বিষয়ে আগ্রহী।’

তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা তিস্তার কথা বললেন… অবশ্যই তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে, একেবারেই হবে। এটি ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন। তারা ‘জাগো বাহে’ বলে ডাক দিয়েছে। আমরা যদি সেই ডাকে সাড়া না দিই, তবে আমরা এখানে কেন আছি?’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওই অঞ্চলের সমস্যা সমাধান করা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সরকারের প্রতিশ্রুতি। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব এবং চীন সফরে অবশ্যই এটি নিয়ে আলোচনা করব।’

চীনের প্রকল্প প্রস্তাব এবং ভারতের পানি বণ্টন চুক্তিকে আলাদাভাবে দেখা উচিত কি না—এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিস্তা পাড়ের মানুষ বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে আছে। এটি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ও বটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যত বিকল্প আছে আমরা সব খতিয়ে দেখব। যেটি সবচেয়ে ভালো হবে, আমরা সেটিই বেছে নেব। আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো জনগণের স্বার্থ—বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি।’

পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ-বিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে জোর করে লোক পুশ-ইন করার আশঙ্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রহমান বলেন, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী যখন একই ধরনের কথা বলেছিলেন এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন যে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। এই ইস্যুতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা তা-ই নেব।’

সংবাদসূত্র: দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস

নিউজটি শেয়ার করুন

তিস্তা সংকট সমাধানে ভারতের অপেক্ষায় বসে থাকতে পারি না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:২৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

তিস্তা পাড়ের মানুষের জন্য পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি ‘জীবন-মরণ’ সমস্যা। এই সংকটের সমাধানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ভারতের অপেক্ষায় বসে থাকতে চায় না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। এর বদলে এই অঞ্চলে উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালনার বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে সরকার।

চীন সফরে যাওয়ার আগে মঙ্গলবার গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে খলিলুর রহমান জানান, তাঁর এই সরকারি সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ‘অবশ্যই’ আলোচনা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসার ফলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৈরি করা আগের বাধাগুলো দূর হতে পারে কি না এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে ঢাকা এখনও আশাবাদী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, ভারত পদক্ষেপ নেবে সেই আশায় বাংলাদেশ হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

তিনি বলেন, ‘দেখুন, পশ্চিমবঙ্গে এখনও সরকার গঠিত হয়নি। তারা কী ভাবছে বা কী করবে তা তারাই বলতে পারবে। তাদের মনের কথা পড়া আমার কাজ নয়।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি তখনকার সময়ে পৌঁছানো ঐকমত্য বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও ‘বিবেচনা’ করা যেতে পারে। কিন্তু আমরা শুধু সেটার জন্য বসে থাকতে পারি না। আমাদের নিজেদেরও কাজ আছে।’

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের আগে দুই দেশের পানিসম্পদ মন্ত্রীরা তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। মনমোহন সিংয়ের সফরের সময় এই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চুক্তিটি সই হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণে তা আটকে যায়।

ভারতে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে আশা জাগলেও মমতার অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। পানি বণ্টন চুক্তিটি ঝুলে থাকায় বাংলাদেশ ‘তিস্তা নদী ব্যাপক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ শুরু করে।

২০১৯ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেইজিং সফরের সময় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল যে তিনি এই প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু কাজে চীনের সহায়তা চেয়েছেন। সে সময় বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এই প্রকল্পের আওতায় নদীর তীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দূর করার ব্যবস্থা থাকবে।

ভারত এই প্রকল্প কোনো চীনা কোম্পানিকে দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার মধ্যেই বেইজিং প্রায় ১০০ কোটি ডলারের একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব জমা দেয়। ২০২৪ সালের মে মাসে ঢাকা সফরের সময় ভারতের তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানান। পরের মাসে শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দিল্লি আবারও তিস্তা মহাপরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখায়। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন যে ভারতের একটি প্রযুক্তিগত দল শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবে।

এর প্রায় এক মাস পর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে এবং তিনি ভারতে চলে যান। এরপর থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বিএনপি এখন ক্ষমতায় এবং আন্দোলনের অন্যতম নেতা আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি ও উন্নয়ন প্রকল্প—উভয় বিষয়ই অমীমাংসিত থাকা অবস্থায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মঙ্গলবার তিন দিনের সফরে বেইজিং গেছেন। সেখানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি চীনের রাজনৈতিক পরামর্শক সম্মেলনের চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গেও তাঁর দেখা করার কথা রয়েছে।

সফরের উদ্দেশ্য ও তিস্তা প্রকল্প নিয়ে জানতে চাইলে রহমান বলেন, ‘চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু, যাদের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব রয়েছে। নতুন সরকারের এটিই প্রথম চীন সফর।’

তিনি আরও বলেন, ‘চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এই সফরে আমরা দুই দেশের সম্পর্ক কীভাবে আরও গভীর, দ্রুত ও বিস্তৃত করা যায় সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘আমরা ইতোমধ্যে চীনের সঙ্গে অনেক খাতে বড় বড় প্রকল্পে কাজ করছি। এই সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্বের ঊর্ধ্বে নেওয়া যায় কি না সে বিষয়ে আমরা আলোচনা করব। তারা এ বিষয়ে আগ্রহী।’

তিস্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা তিস্তার কথা বললেন… অবশ্যই তিস্তা নিয়ে আলোচনা হবে, একেবারেই হবে। এটি ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য জীবন-মরণের প্রশ্ন। তারা ‘জাগো বাহে’ বলে ডাক দিয়েছে। আমরা যদি সেই ডাকে সাড়া না দিই, তবে আমরা এখানে কেন আছি?’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘ওই অঞ্চলের সমস্যা সমাধান করা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সরকারের প্রতিশ্রুতি। আমরা সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করব এবং চীন সফরে অবশ্যই এটি নিয়ে আলোচনা করব।’

চীনের প্রকল্প প্রস্তাব এবং ভারতের পানি বণ্টন চুক্তিকে আলাদাভাবে দেখা উচিত কি না—এমন প্রশ্নে খলিলুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তিস্তা পাড়ের মানুষ বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে আছে। এটি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়ও বটে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে যত বিকল্প আছে আমরা সব খতিয়ে দেখব। যেটি সবচেয়ে ভালো হবে, আমরা সেটিই বেছে নেব। আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলো জনগণের স্বার্থ—বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতি।’

পশ্চিমবঙ্গের সম্ভাব্য হবু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাংলাদেশ-বিরোধী বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভারত থেকে জোর করে লোক পুশ-ইন করার আশঙ্কার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রহমান বলেন, ‘আসামের মুখ্যমন্ত্রী যখন একই ধরনের কথা বলেছিলেন এবং কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন যে আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছি। এই ইস্যুতে যা যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার আমরা তা-ই নেব।’

সংবাদসূত্র: দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এবং দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস