ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহানন্দার পাড়ে তীব্র পানির সংকট, ৩ হাজার মানুষের নাভিশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০২:৩৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬
  • / ১৮ বার পড়া হয়েছে

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলার মহানন্দা নদী সংলগ্ন গ্রামগুলোতে গত ৭ বছর ধরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে রমজান মাসে এই দুর্ভোগ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

তেঁতুলিয়ার সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী ও পুরাতন বাজার এবং সদর উপজেলার রাজা পাড়ের ডাঙা ও মীরগড়সহ অন্তত ছয়টি গ্রামের টিউবওয়েলগুলো বর্তমানে অচল। স্থানীয় বাসিন্দারা পানির প্রয়োজনে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থিত সরকারি একটি মাত্র টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুরা সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার এসব মানুষ লাইন ধরে পানি সংগ্রহ করলেও সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় কাউকে ঢুকতে দেয় না বিজিবি। ফলে এখানে খাবার পানিসহ গৃহস্থালি কাজের জন্যে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নদীর পাড়ে সিদ্দিক নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ৬ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানি সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সরকারিভাবে অনেক দেন-দরবার করা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি-আশ্বাস মিললেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। দিনের অংশে পুরুষ এবং শিশুরা মহানন্দা নদীতে গোসল করলেও নারীরা তাদের গোসলসহ বাড়ির কাজ পানির অভাবে করতে পারছেন না। সরকারীভাবে সাবমার্সেল ও তারাপাম্প বসিয়ে পানি সরবরাহের কোনও বিকল্প নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজন বলছে, সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এবং সদর উপজেলার নদী বেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রামের টিউবওয়েলে আর পানি উঠছে না। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে মানুষের জীবন প্রবাহ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত ৭ বছর ধরে বছরের ৩ থেকে ৪ মাস টিউবওয়েল থেকে পানি মিললেও, বাকি সময়টাতে মিলছে না। এতে সীমান্ত নদীর পাড়ে থাকা একটি মাত্র টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষ।

তেঁতুলিয়া উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ পানি পাওয়া যায় এই তেঁতুলিয়ায়। বাইরে থেকে পর্যটকরা এসে এখানকার পানি বোতলে করে নিয়ে যায়। অসংখ্য নদ-নদী প্রবাহিত এই সীমান্ত জনপদ দিয়ে যার সবগুলোর উৎস মুখ ভারতে। তারা একতরফা বাঁধ নির্মাণ করে নদী শাসন করছে। ফলে বাংলাদেশের অংশের নদ-নদীগুলো বর্তমানে মরা খালে পরিণত হওয়ায় পানির স্বাভাবিক স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। হাহাকার উঠেছে পানির জন্যে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সরকারের দ্রুত এগিয়ে আসা দরকার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া, সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনসহ কৃষি জমিতে ভারী সেচ পাম্প স্থাপনের কারণে পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ। বিষয়টি নিরসনে কমিউনিটি ভিত্তিক সাবমার্সিবল পাম্প অথবা তারা পাম্প স্থাপনের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে সাবমার্সেল এবং তারা পাম্পের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি কাজ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

মহানন্দার পাড়ে তীব্র পানির সংকট, ৩ হাজার মানুষের নাভিশ্বাস

আপডেট সময় ০২:৩৫:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া ও সদর উপজেলার মহানন্দা নদী সংলগ্ন গ্রামগুলোতে গত ৭ বছর ধরে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৩ হাজার মানুষ চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিশেষ করে রমজান মাসে এই দুর্ভোগ ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।

তেঁতুলিয়ার সিদ্দিকনগর, মোমিনপাড়া, সাহেবজোত, ঈদগাবস্তী ও পুরাতন বাজার এবং সদর উপজেলার রাজা পাড়ের ডাঙা ও মীরগড়সহ অন্তত ছয়টি গ্রামের টিউবওয়েলগুলো বর্তমানে অচল। স্থানীয় বাসিন্দারা পানির প্রয়োজনে সীমান্তের শূন্য রেখায় অবস্থিত সরকারি একটি মাত্র টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রচণ্ড রোদে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুরা সেখান থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এলাকার এসব মানুষ লাইন ধরে পানি সংগ্রহ করলেও সন্ধ্যার পর নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকায় কাউকে ঢুকতে দেয় না বিজিবি। ফলে এখানে খাবার পানিসহ গৃহস্থালি কাজের জন্যে পানির সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

নদীর পাড়ে সিদ্দিক নগর গ্রামের বাসিন্দা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা ৬ গ্রামের প্রায় ৩ হাজার মানুষ পানি সংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি। সরকারিভাবে অনেক দেন-দরবার করা হয়েছে, প্রতিশ্রুতি-আশ্বাস মিললেও বাস্তবতা অনেক কঠিন। দিনের অংশে পুরুষ এবং শিশুরা মহানন্দা নদীতে গোসল করলেও নারীরা তাদের গোসলসহ বাড়ির কাজ পানির অভাবে করতে পারছেন না। সরকারীভাবে সাবমার্সেল ও তারাপাম্প বসিয়ে পানি সরবরাহের কোনও বিকল্প নেই। স্থানীয় সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে গ্রামবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের লোকজন বলছে, সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া এবং সদর উপজেলার নদী বেষ্টিত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ পানি সংকটে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের মানুষ। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি গ্রামের টিউবওয়েলে আর পানি উঠছে না। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে মানুষের জীবন প্রবাহ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, গত ৭ বছর ধরে বছরের ৩ থেকে ৪ মাস টিউবওয়েল থেকে পানি মিললেও, বাকি সময়টাতে মিলছে না। এতে সীমান্ত নদীর পাড়ে থাকা একটি মাত্র টিউবওয়েলের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন গ্রামের মানুষ।

তেঁতুলিয়া উপজেলার সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ পানি পাওয়া যায় এই তেঁতুলিয়ায়। বাইরে থেকে পর্যটকরা এসে এখানকার পানি বোতলে করে নিয়ে যায়। অসংখ্য নদ-নদী প্রবাহিত এই সীমান্ত জনপদ দিয়ে যার সবগুলোর উৎস মুখ ভারতে। তারা একতরফা বাঁধ নির্মাণ করে নদী শাসন করছে। ফলে বাংলাদেশের অংশের নদ-নদীগুলো বর্তমানে মরা খালে পরিণত হওয়ায় পানির স্বাভাবিক স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। হাহাকার উঠেছে পানির জন্যে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়ে সরকারের দ্রুত এগিয়ে আসা দরকার।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, নদীর পানি কমে যাওয়া, সমতল ভূমি কেটে পাথর উত্তোলনসহ কৃষি জমিতে ভারী সেচ পাম্প স্থাপনের কারণে পানির স্বাভাবিক স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এই দুর্ভোগ। বিষয়টি নিরসনে কমিউনিটি ভিত্তিক সাবমার্সিবল পাম্প অথবা তারা পাম্প স্থাপনের সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরু বলেন, পানি সংকটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে সাবমার্সেল এবং তারা পাম্পের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি কাজ করছেন।