ঢাকা ০১:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জট খুলেছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের

স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় ০৪:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • / ৩৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের রেল যোগাযোগ সহজ করতে দীর্ঘদিনের দাবি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ। গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৮ সালে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৎকালীন সরকার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও ছিল না দৃশ্যমান অগ্রগতি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জট খুলেছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পে। কেটেছে অর্থায়নের জটিলতাও। নতুন রেলপথ নির্মাণে সিরাজগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, “আমাদেরও অধিগ্রহণে জমি ও বাড়িঘর পড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছি। এই রেলপথ হলে বগুড়া থেকে ঢাকায় যেকোনো পণ্য সহজেই পরিবহন করতে পারব।”

এই রেলপথটি নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যাতায়াতের সময় বাঁচবে প্রায় চার ঘণ্টা। দূরত্ব কমবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। গতি আসবে উত্তরাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে।

স্থানীয় নাগরিকরা বলেন, “আগে শান্তাহার হয়ে ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরতে হতো। এখন আর তা করতে হবে না। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।”

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ খুলে দেবে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত। গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। গতি ফিরবে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, “এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সব মানুষ উপকৃত হবে। এই রেলপথ চালু হলে কাঁচামাল দ্রুততম সময়ে পরিবহন করা সম্ভব হবে।”

সিরাজগঞ্জ অংশে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এগিয়ে নিতে ১ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ ও কামারখন্দ উপজেলার জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করেছি। ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালকের কাছে এসব জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পটির অর্থায়ন-সংক্রান্ত জটিলতাও কেটেছে। ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের পরিবর্তে অর্থায়ন করবে এআইআইবি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি আগামী সপ্তাহেই জমা দেওয়া হবে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, “ডিপিপি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় আবারও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সে অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবারও ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর এটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখান থেকে একনেকে অনুমোদিত হবে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।”

৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে ৯টি নতুন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৪টি এবং সিরাজগঞ্জে ৫টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

জট খুলেছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পের

আপডেট সময় ০৪:৫৮:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের মানুষের রেল যোগাযোগ সহজ করতে দীর্ঘদিনের দাবি সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ। গুরুত্ব বিবেচনায় ২০১৮ সালে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে তৎকালীন সরকার ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করে। কিন্তু দীর্ঘদিন পার হলেও ছিল না দৃশ্যমান অগ্রগতি। তবে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর জট খুলেছে সিরাজগঞ্জ-বগুড়া ডুয়েল গেজ রেলপথ প্রকল্পে। কেটেছে অর্থায়নের জটিলতাও। নতুন রেলপথ নির্মাণে সিরাজগঞ্জ অংশের ভূমি অধিগ্রহণ এরই মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, “আমাদেরও অধিগ্রহণে জমি ও বাড়িঘর পড়েছে। আমরা ইতিমধ্যে ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছি। এই রেলপথ হলে বগুড়া থেকে ঢাকায় যেকোনো পণ্য সহজেই পরিবহন করতে পারব।”

এই রেলপথটি নির্মিত হলে রাজধানীর সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর যাতায়াতের সময় বাঁচবে প্রায় চার ঘণ্টা। দূরত্ব কমবে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি। গতি আসবে উত্তরাঞ্চলের পণ্য ও যাত্রী পরিবহনে।

স্থানীয় নাগরিকরা বলেন, “আগে শান্তাহার হয়ে ১০০ কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরতে হতো। এখন আর তা করতে হবে না। সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেল সংযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে সরকার এটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।”

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ খুলে দেবে এ অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন দিগন্ত। গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা। গতি ফিরবে এ অঞ্চলের অর্থনীতিতে।

সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, “এটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের সব মানুষ উপকৃত হবে। এই রেলপথ চালু হলে কাঁচামাল দ্রুততম সময়ে পরিবহন করা সম্ভব হবে।”

সিরাজগঞ্জ অংশে প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এগিয়ে নিতে ১ হাজার ৯০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার।

সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, “সিরাজগঞ্জ সদর, রায়গঞ্জ ও কামারখন্দ উপজেলার জমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম আমরা সম্পন্ন করেছি। ইতিমধ্যে প্রকল্প পরিচালকের কাছে এসব জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

প্রকল্প পরিচালক জানান, প্রকল্পটির অর্থায়ন-সংক্রান্ত জটিলতাও কেটেছে। ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের পরিবর্তে অর্থায়ন করবে এআইআইবি। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশোধিত ডিপিপি আগামী সপ্তাহেই জমা দেওয়া হবে।

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, “ডিপিপি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিলাম। মন্ত্রণালয় আবারও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। সে অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে আবারও ডিপিপি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর এটি পরিকল্পনা কমিশনে যাবে। সেখান থেকে একনেকে অনুমোদিত হবে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করার চেষ্টা করছি।”

৮৪ কিলোমিটার দীর্ঘ সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথে ৯টি নতুন স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ায় ৪টি এবং সিরাজগঞ্জে ৫টি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।