নেত্রকোনায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ
- আপডেট সময় ০৭:০০:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
- / ২৬ বার পড়া হয়েছে
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) মুখ ও হাত-পা বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর বাবা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে অভিযুক্ত মুন্নাকে (২৫) একমাত্র আসামি করে মোহনগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করলে সেটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে পুলিশ। অভিযুক্ত মুন্না উপজেলার রানা হিজল গ্রামের বাসিন্দা।
সোমবার (১৫ জুন) গণমাধ্যমকে মামলার সত্যতা নিশ্চিত করেন মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন।
পারিবারিক সূত্র ও এজাহার থেকে জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র এবং কোনো সহায়-সম্পত্তি না থাকায় তারা উপজেলার রানা হিজল গ্রামের জনৈক এক তালুকদারের বসতবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। গত ১২ জুন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শিশুটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে বের হয়। এ সময় পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একই এলাকার যুবক মুন্না (২৫) শিশুটির মুখ গামছা দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে-হেঁচড়ে জনৈক তালুকদারের একটি পরিত্যক্ত রান্নাঘরের ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে মুন্না শিশুটির মুখ, হাত ও পা গামছা দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণ শেষে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ধারাল ছুরি দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন। ভয়ে শিশুটি প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি।
এরপর শিশুটির প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হলে রোববার (১৪ জুন) শিশুটি ব্যথায় কাতর হয়ে তার ফুফুকে (২৮) বিষয়টি খুলে বলে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে শিশুর বাবাকে বিষয়টি জানান।
ঘটনা জানার পর শিশুর বাবা ও ফুফু অভিযুক্ত মুন্নার বাবার কাছে বিচার চাইতে যান। অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি শুনে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ভুক্তভোগীর পরিবারকে চরম ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং হুমকি দিয়ে বলেন, তোরা যদি এ বিষয়টি এলাকার কাউকে বলিস বা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করিস, তাহলে তোদের একজনকেও এলাকায় থাকতে দেব না। তোদের সব কয়টাকে হত্যা করিয়া লাশ গুম করিয়া ফেলাইব।
ওসি মো. হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, এ ঘটনায় গতকাল রাতে মামলা করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটিকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য আজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার আরও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য আমাদের গভীর তদন্ত চলছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
























