ঢাকা ১১:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার ইসলামের ইতিহাস সাবজেক্ট পড়াতে ‘না’ এমপি মনিরুলের

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৮:০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
  • / ৩৬ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে নেকাব ও পর্দা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে ইসলামের ইতিহাস ও মোঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সাবজেক্ট নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন মনিরুল হক চৌধুরী। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও মোঘল ইতিহাস বিভাগ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওতে এমপি মনিরুল বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজের জায়গাটা দখল হয়ে যাচ্ছে। আপনি আমারে ভাঙ্গা বছরে লাখ ২৫ এক্সিল চাইলে দিবেন কিনা। ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র আমি। এ পর্যন্ত আমার আগের এল্যামনাই সব মরে গেছে তারা কলেজের জন্য কিছু করতে পারে নাই। এবার বর্ষাকালে অ্যালামনাই করছি। ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রিন্সিপালকে আমি বলেছি, ইসলামের ইতিহাস সাবজেক্ট, মোঘল সময়ের ইতিহাস এসব পড়াবেন না মাস্টার। আল্লাহর ওয়াস্তে এসব কলেজে দেবেন না। এটার জন্য আলাদা একটা চিড়িয়াখানা করেন। আমি বাজেটে প্রস্তাব দেব আপনার জন্য আলাদা কিছু টাকা যেন রাখে। এই বিভাগ দয়া করে দূর করেন।

এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দুইটি কারণে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আপনার সাথে কথা বলে কিছু শিখতে পারি আর আপনার সেবা করার সুযোগ চাই। আপনি একটা চিঠি পাঠিয়ে দেবেন, আমি শান্তিতে থাকব।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, ওকে থ্যাংক ইউ। রবিবারে সংসদে আমাকে প্রথমে বক্তৃতা দিতে হবে। আমি লোক পাঠাব, আপনার কাছে পৌঁছবে। আমাকে এই কাজটা করে দেবেন।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যেও বিতর্কের জন্ম দেন মনিরুল হক চৌধুরী। বিরোধীদলের নারী এমপিদের হিজাব ও নেকাব নিয়ে দেওয়া ওই বক্তব্যের জেরে সংসদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে স্পিকার তার বক্তব্যের কিছু অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম ও শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দুইজনের বক্তৃতা শুনেছি, আগামীতে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যৎ আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?

নারী এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আমরা এই দিকে দেখলে কী আছে বুঝব না, এটা ঠিক না।’

পরে মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে ২০০১ সালে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। সে অনুষ্ঠানে বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও তার স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

কিছুটা হাস্যরস করে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি বউ নিয়ে যাইনি, কয়েকজন যায়নি। কিন্তু তাহের ভাই (সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের) বউ নিয়ে গেছেন। ঢুকার পর দেখি, একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বলেন, ‘এই যে!’ তখন বলি, ‘আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝব?’

এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

এবার ইসলামের ইতিহাস সাবজেক্ট পড়াতে ‘না’ এমপি মনিরুলের

আপডেট সময় ০৮:০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদে নেকাব ও পর্দা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের জের কাটতে না কাটতেই নতুন করে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে ইসলামের ইতিহাস ও মোঘল সাম্রাজ্যের ইতিহাস সাবজেক্ট নিয়ে কটাক্ষ করতে দেখা গেছে।

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের উন্নয়ন নিয়ে কথা বলেন মনিরুল হক চৌধুরী। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি কলেজে ইসলামের ইতিহাস ও মোঘল ইতিহাস বিভাগ রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

ভিডিওতে এমপি মনিরুল বলেন, ভিক্টোরিয়া কলেজের জায়গাটা দখল হয়ে যাচ্ছে। আপনি আমারে ভাঙ্গা বছরে লাখ ২৫ এক্সিল চাইলে দিবেন কিনা। ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্র আমি। এ পর্যন্ত আমার আগের এল্যামনাই সব মরে গেছে তারা কলেজের জন্য কিছু করতে পারে নাই। এবার বর্ষাকালে অ্যালামনাই করছি। ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রিন্সিপালকে আমি বলেছি, ইসলামের ইতিহাস সাবজেক্ট, মোঘল সময়ের ইতিহাস এসব পড়াবেন না মাস্টার। আল্লাহর ওয়াস্তে এসব কলেজে দেবেন না। এটার জন্য আলাদা একটা চিড়িয়াখানা করেন। আমি বাজেটে প্রস্তাব দেব আপনার জন্য আলাদা কিছু টাকা যেন রাখে। এই বিভাগ দয়া করে দূর করেন।

এরপর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা বলেন, দুইটি কারণে আপনার সঙ্গে দেখা করতে চাই। আপনার সাথে কথা বলে কিছু শিখতে পারি আর আপনার সেবা করার সুযোগ চাই। আপনি একটা চিঠি পাঠিয়ে দেবেন, আমি শান্তিতে থাকব।

পরবর্তীতে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম বলেন, ওকে থ্যাংক ইউ। রবিবারে সংসদে আমাকে প্রথমে বক্তৃতা দিতে হবে। আমি লোক পাঠাব, আপনার কাছে পৌঁছবে। আমাকে এই কাজটা করে দেবেন।

এর আগে রবিবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যেও বিতর্কের জন্ম দেন মনিরুল হক চৌধুরী। বিরোধীদলের নারী এমপিদের হিজাব ও নেকাব নিয়ে দেওয়া ওই বক্তব্যের জেরে সংসদে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে একপর্যায়ে স্পিকার তার বক্তব্যের কিছু অংশ সংসদীয় কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযম ও শালীনতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘দুইজনের বক্তৃতা শুনেছি, আগামীতে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যৎ আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?

নারী এমপিদের উদ্দেশে বলেন, আমরা এই দিকে দেখলে কী আছে বুঝব না, এটা ঠিক না।’

পরে মনিরুল হক চৌধুরী তার বক্তব্যে ২০০১ সালে একটি দাওয়াত অনুষ্ঠানে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন। সে অনুষ্ঠানে বর্তমান বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামীর সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও তার স্ত্রীকে নিয়ে উপস্থিত ছিলেন।

কিছুটা হাস্যরস করে মনিরুল হক বলেন, ‘আমি বউ নিয়ে যাইনি, কয়েকজন যায়নি। কিন্তু তাহের ভাই (সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের) বউ নিয়ে গেছেন। ঢুকার পর দেখি, একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি তাহের ভাই ভাবি কই? উনি বলেন, ‘এই যে!’ তখন বলি, ‘আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই, এটা কেমনে বুঝব?’

এ সময় সংসদ সদস্যদের অনেকেই উচ্চস্বরে হেসে ওঠেন।