রাজধানীর ৪ বাস টার্মিনাল দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় ০৪:১৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
- / ২০ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর চারটি বাস টার্মিনাল অতি দ্রুত স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে রাজধানীর যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নসংক্রান্ত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু। তিনি বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে চারটি আন্তঃনগর বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে অতি দ্রুত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
চারটি বাস টার্মিনাল হচ্ছে, ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনাল, গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি কেরানিগঞ্জে স্থানান্তর হবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল অস্থায়ীভাবে যাবে পূর্বাঞ্চলে এবং পরে স্থায়ীভাবে টঙ্গির কাছে স্থানান্তরিত হবে।
গাবতলী বাস টার্মিনাল হেমায়েতপুরে এবং সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনাল যাবে কাঁচপুরে।
উপ প্রেস সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী একই সাথে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে যততত্র ছড়িয়ে থাকা বাস কাউন্টারগুলো দ্রুত সরিয়ে নির্দিষ্টস্থানে নেয়ার তাগাদা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন, এআই ক্যামেরা স্থাপনসহ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ট্রাফিক সিগন্যালিং এআই ক্যামেরা স্থাপনের সুফলপ্রাপ্তিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক।
সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজউকের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মানবিক রাষ্ট্র গঠনে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
বাসস জানায়, মানবিক রাষ্ট্র গঠন এবং জনগণের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নির্বাহী ও বার্তা প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় দেশ গড়ার কাজে তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা চান। প্রধানমন্ত্রী দুপুর পৌনে ২টা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত এই মতবিনিময় সভা করেন।
সভার পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা চাই না হাটে, ঘাটে, মাঠে সব সময় রাজনীতি নিয়ে কথা বলব।’ প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি কথা বলেছেন যে, একটি কুকুরকে মারা হচ্ছে, একজন মানুষকে মেরে ফেলছে আর আমরা বসে বসে ভিডিও করছি। আমাদের মধ্যে যে মানবিক অনুভূতি, মূল্যবোধ রয়েছে- এগুলো জাগিয়ে তোলা দরকার। সামাজিক বোধগুলো জাগিয়ে তোলা দরকার। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের কথা শুনেছেন। তিনি বলেছেন যে, আগামী দিনগুলোতে মিডিয়ার সাথে কথা বলবেন, মতবিনিময় করবেন।
সভায় বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, সময় টিভির জুবায়ের বাবু, ডিবিসির লোটন ইকরাম, মোহনা টেলিভিশনের রাশেদুল হক, একাত্তর টেলিভিশনের শফিক আহমেদ, জিটিভির গাউসুল আজম বিপু, দেশ টিভির মহিউদ্দীন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরিফুল ইসলাম, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, নাগরিক টিভির ইরফানুল হক নাহিদ, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, বাংলা টিভির এম এম বাদশা প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এ সময় বক্তব্য রাখেন।
এ ছাড়া সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ও মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস. এ. এম. মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী মিডিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যাহ্ন ভোজে আপ্যায়ন করেন।



















