মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন
এখন থেকে যখন খুশি হরমুজ বন্ধ করে দিতে পারবে ইরান
- আপডেট সময় ০২:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
- / ২৭ বার পড়া হয়েছে
এখন থেকে ইচ্ছামতো যখন খুশি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশাধিকার কার্যকরভাবে বন্ধ করে দিতে পারবে ইরান । এর অর্থ হলো, এই যুদ্ধের ফলে দেশটির শাসকগোষ্ঠী বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার এক শক্তিশালী নতুন সক্ষমতা অর্জন করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক গোয়েন্দা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।
পারমাণবিক আলোচনার সূচনা হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি খোলার জন্য শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান বর্তমান সংঘাতের সময় প্রমাণ করে দিয়েছে, তারা প্রণালিটিতে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দিতে পারে। মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এমনটা আবারও ঘটতে পারে।
মার্কিন গোয়েন্দা পর্যালোচনা সম্পর্কে জানেন এমন একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ‘আমরা এখন ইরানের হাতে প্রণালিটির কার্যত নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়েছি, যা যেকোনো পারমাণবিক অস্ত্রের চেয়েও শক্তিশালী একটি অস্ত্র।’ সূত্রটি জোর দিয়ে বলেছে যে, এই যুদ্ধ ভবিষ্যতে একই ধরনের কৌশল ব্যবহারের বিষয়ে তেহরানের চিন্তাভাবনাকে মৌলিকভাবে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
পর্যালোচনা সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে ইরান। এ থেকে তারা শিখেছে যে, একে একটি অপ্রতিসম সক্ষমতা হিসেবে কাজে লাগানো যায় এবং ভবিষ্যতে এটি তাদের সুবিধার্থে ব্যবহার করার মতো আরেকটি হাতিয়ার।
প্রণালিটি সম্পূর্ণরূপে পুনরায় খোলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে নিবিড়ভাবে আলোচনা করতে হয়েছে, যা ইরানিদের অব্যাহত দর কষাকষির সক্ষমতাকেই তুলে ধরে।
এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য হোয়াইট হাউস ও ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, প্রণালিটি খোলা না থাকলে এবং চুক্তিতে সম্মত হওয়া অন্যান্য শর্ত মেনে না চললে ইরান চুক্তির কোনো সুবিধাই পাবে না। ওই কর্মকর্তা অবশ্য সুবিধাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তবে ব্যাখ্যা করেছেন যে প্রণালিতে নৌযান চলাচল পুনরুদ্ধারের অনুপাতে যুক্তরাষ্ট্র তার অবরোধ শিথিল করবে। তার দাবি, ‘যদি ইরান তার প্রতিশ্রুতি পালন করে, তাহলে স্বস্তি আসবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের দর কষাকষির ক্ষমতা পুরোটা সময় ধরে বজায় থাকবে’।
চুক্তি সম্পর্কে অবগত আরেকটি সূত্র সিএনএনের কাছে স্বীকার করেছে যে, ভবিষ্যতে প্রণালিটি কার্যকরভাবে বন্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা আত্মঘাতী পরিণতি বয়ে আনবে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রণালিটি খুলে গেলে মিত্র দেশগুলো কোনোভাবে সেখানে পাহারার ব্যবস্থা করতে পারে কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এই মুহূর্তে তা কীভাবে কাজ করবে তা স্পষ্ট নয়। সর্বশেষ গোয়েন্দা পর্যালোচনায় এই সম্ভাবনাকেও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
একাধিক সূত্র সিএনএনকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ভেস্তে গেলে ইরান একটি অর্থনৈতিক ‘চরম পদক্ষেপ’ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আর তা হলো, ইয়েমেনে ইরানের প্রধান প্রক্সি বাহিনী হুতিদের দিয়ে বাব-এল-মানদেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া। এই প্রণালি লোহিতসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি আরেকটি বৈশ্বিক বাণিজ্যের সংকীর্ণ পথ, যা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার সময় জাহাজ চলাচলের লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছে।
সামগ্রিকভাবে সাম্প্রতিক মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নগুলো প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই সিদ্ধান্তের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবকেই তুলে ধরে, যেখানে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি বিবেচনা না করেই সংঘাত শুরু করেছিলেন।
পর্যালোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্রের তথ্যমতে, ইরান প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার পর থেকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ক্রমাগত পুনর্মূল্যায়ন করে চলেছে যে, ভবিষ্যতে তারা কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সেই একই কৌশল ব্যবহার করার চেষ্টা করতে পারে।
একাধিক সূত্র জানায়, উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি ব্যয় না করেই প্রণালিটি বন্ধ করতে এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাতে সক্ষম হওয়ায় ইরান আরো সাহসী হয়ে উঠেছে।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের সক্ষমতা এখন প্রমাণিত। কাজেই ভবিষ্যতে তারা একই পদক্ষেপ নেবে এমন সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সূত্র: সিএনএন

























