ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধবিরতি ‘প্রাণঘাতী মরীচিকা’: গাজায় ২৬৫ শিশু নিহত-ইউনিসেফ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • / ১৬ বার পড়া হয়েছে

ইউনিসেফ গাজায় যুদ্ধবিরতিকে ‘প্রাণঘাতী মরীচিকা’ বলে আখ্যা দিয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে।
ইউনিসেফ বলছে, আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে—এ অবস্থাকে আদৌ কি ‘যুদ্ধবিরতি’ বলা যায়?

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। সংস্থাটি এই যুদ্ধবিরতিকে একটি “প্রাণঘাতী মরীচিকা” হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছে যে, শত্রুতা বন্ধের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন,

“যে সময়টিকে সংযম ও সুরক্ষার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হওয়ার কথা ছিল, সেই সময়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।”

তিনি যুদ্ধবিরতিকে একটি “নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী মরীচিকা” বলে উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, যখন শিশুরা এখনও মারা যাচ্ছে তখন এটিকে আদৌ যুদ্ধবিরতি বলা যায় কি না।

তিনি বলেন,

“বিশ্ব যখন এখনও ‘যুদ্ধবিরতি’র ভাষায় কথা বলছে, তখন গাজার পরিবারগুলো তাদের ছেলে-মেয়েদের কবর দিয়ে চলেছে।”

এল্ডার জানান, শিশুরা তাদের বাড়ি, স্কুল ও জনসমাগমস্থলে নিহত হয়েছে। কেউ ফুটবল খেলতে গিয়ে, কেউ মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সপ্তাহেই: দুই বছর বয়সী এক শিশুকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে; ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে তার তাঁবুর ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে—এবং এমন ঘটনা চলছেই।’

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০০-এরও বেশি শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকেই গুরুতর আঘাত পেয়েছে।

এল্ডার বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যেই কষ্ট সীমাবদ্ধ নয়। ৪০০-এর বেশি শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের ক্ষত অত্যন্ত ভয়াবহ।’

তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—এক ১২ বছর বয়সী মেয়ে, যে তার তাঁবুর ভেতরে থাকাকালে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছে; এবং এক ৩ বছর বয়সী মেয়ে, যে নিজের বাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে ছোড়া গুলিতে মুখে আঘাত পেয়েছে।

এল্ডার সতর্ক করে বলেন, শত শত শিশুর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) প্রয়োজন। এছাড়া জরুরি ওষুধের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আহত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ, জটিলতা এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এল্ডার বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য ভয়, ক্ষতি ও সহিংসতা এতটাই স্থায়ী হয়ে গেছে যে ট্রমা আর তাদের জীবনের কোনো সাময়িক ঘটনা নয়; এটি তাদের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।’

তিনি সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সকলের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।

তিনি লেবাননের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী ২ মার্চ থেকে সংঘাত বৃদ্ধির পর ২৪৭ জন শিশু নিহত এবং ৯৯২ জন আহত হয়েছে।

শেষে এল্ডার বলেন, ‘যতক্ষণ শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতিকেই অর্থবহ বলা যায় না।’

সূত্র: টিআরটি

নিউজটি শেয়ার করুন

যুদ্ধবিরতি ‘প্রাণঘাতী মরীচিকা’: গাজায় ২৬৫ শিশু নিহত-ইউনিসেফ

আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ইউনিসেফ গাজায় যুদ্ধবিরতিকে ‘প্রাণঘাতী মরীচিকা’ বলে আখ্যা দিয়েছে, কারণ যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও ইসরায়েল ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশুকে হত্যা করেছে।
ইউনিসেফ বলছে, আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে। সংস্থাটি প্রশ্ন তুলেছে—এ অবস্থাকে আদৌ কি ‘যুদ্ধবিরতি’ বলা যায়?

২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৬৫ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউনিসেফ জানিয়েছে। সংস্থাটি এই যুদ্ধবিরতিকে একটি “প্রাণঘাতী মরীচিকা” হিসেবে বর্ণনা করে সতর্ক করেছে যে, শত্রুতা বন্ধের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে।

শুক্রবার জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন,

“যে সময়টিকে সংযম ও সুরক্ষার সময় হিসেবে বিবেচনা করা হওয়ার কথা ছিল, সেই সময়ে আট মাসেরও বেশি সময় ধরে গড়ে প্রতিদিন একজন করে শিশু নিহত হয়েছে।”

তিনি যুদ্ধবিরতিকে একটি “নিষ্ঠুর ও প্রাণঘাতী মরীচিকা” বলে উল্লেখ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, যখন শিশুরা এখনও মারা যাচ্ছে তখন এটিকে আদৌ যুদ্ধবিরতি বলা যায় কি না।

তিনি বলেন,

“বিশ্ব যখন এখনও ‘যুদ্ধবিরতি’র ভাষায় কথা বলছে, তখন গাজার পরিবারগুলো তাদের ছেলে-মেয়েদের কবর দিয়ে চলেছে।”

এল্ডার জানান, শিশুরা তাদের বাড়ি, স্কুল ও জনসমাগমস্থলে নিহত হয়েছে। কেউ ফুটবল খেলতে গিয়ে, কেউ মাছ ধরতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে।

তিনি বলেন, এই সপ্তাহেই: দুই বছর বয়সী এক শিশুকে ইসরায়েলি বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে; ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরকে তার তাঁবুর ভেতরে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে; পাঁচ বছর বয়সী এক শিশু ও তার বাবা ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে—এবং এমন ঘটনা চলছেই।’

ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০০-এরও বেশি শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকেই গুরুতর আঘাত পেয়েছে।

এল্ডার বলেন, ‘যারা নিহত হয়েছে, তাদের মধ্যেই কষ্ট সীমাবদ্ধ নয়। ৪০০-এর বেশি শিশু আহত হয়েছে, যাদের অনেকের ক্ষত অত্যন্ত ভয়াবহ।’

তিনি সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে—এক ১২ বছর বয়সী মেয়ে, যে তার তাঁবুর ভেতরে থাকাকালে বুকে গুলিবিদ্ধ হয়েছে; এবং এক ৩ বছর বয়সী মেয়ে, যে নিজের বাড়ির ভেতরে থাকা অবস্থায় একটি কোয়াডকপ্টার ড্রোন থেকে ছোড়া গুলিতে মুখে আঘাত পেয়েছে।

এল্ডার সতর্ক করে বলেন, শত শত শিশুর জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর (মেডিকেল ইভাকুয়েশন) প্রয়োজন। এছাড়া জরুরি ওষুধের ওপর বিধিনিষেধের কারণে আহত শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ, জটিলতা এবং অঙ্গচ্ছেদের ঝুঁকি বাড়ছে।

তিনি গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের বিষয়টিও তুলে ধরেন।

এল্ডার বলেন, ‘গাজার শিশুদের জন্য ভয়, ক্ষতি ও সহিংসতা এতটাই স্থায়ী হয়ে গেছে যে ট্রমা আর তাদের জীবনের কোনো সাময়িক ঘটনা নয়; এটি তাদের শৈশবের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে।’

তিনি সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, যুদ্ধবিরতির সময়ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সকলের জন্য উদ্বেগের কারণ হওয়া উচিত।

তিনি লেবাননের পরিস্থিতির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী ২ মার্চ থেকে সংঘাত বৃদ্ধির পর ২৪৭ জন শিশু নিহত এবং ৯৯২ জন আহত হয়েছে।

শেষে এল্ডার বলেন, ‘যতক্ষণ শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতিকেই অর্থবহ বলা যায় না।’

সূত্র: টিআরটি