খুলে দেওয়া হয়েছে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের ৪৪ টি গেট খুলে, ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা
- আপডেট সময় ০৬:০৭:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
- / ১৮ বার পড়া হয়েছে
ভারতের গজলডোবা ব্যারাজের সবগুলো গেট খুলে দেওয়ায় তিস্তার পানি হু হু করে বাড়ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শনিবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় অবস্থিত দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে যেভাবে ভারত থেকে প্রবল গতিতে পানি বাংলাদেশের দিকে আসছে, তাতে মনে হচ্ছে যেকোনো সময় বিপৎসীমা অতিক্রম করে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।
নদীপাড়ের মানুষ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, কয়েক দিন ধরে ভারতে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় উজান থেকে ধেয়ে আসছে পানি। ফলে তিস্তা নদীতে পানির প্রবাহ বেড়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে ডালিয়া পয়েন্টে পানির প্রবাহ কমে গেলেও শনিবার সকাল থেকে আবারও পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির প্রবাহ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকায় তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যেকোনো সময় পানিবন্দি হয়ে পড়তে পারে তিস্তাপাড়ের হাজার হাজার পরিবার।
লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে তিস্তা নদী বয়ে যাওয়ায় নদীতে সামান্য পানি বাড়লে গোটা জেলার সব উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়।
বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার সকাল ৬টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানির প্রবাহ বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো সময় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। নদীতীরবর্তী অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
গড্ডিমারী ইউনিয়নের বাসিন্দা মোবারক আলী বলেন, উজান থেকে প্রচুর পানি আসছে। যেকোনো সময় নিচু এলাকায় পানি ঢুকতে পারে বলে তিনি জানান। দেশের সর্ববৃহৎ শেষ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, শনিবার সকাল ৬টায় তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার পাঁচ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, পানি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড লালমনিরহাটের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, উজান থেকে পানি আসায় তিস্তা নদীর পানি বাড়ছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। তাই এসব অঞ্চলের জনগণকে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।



















