ঢাকা ০৯:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত

৯০ মিনিটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান দেবে হাবিপ্রবির প্রযুক্তি

হাবিপ্রবি প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৭:২৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
  • / ২২ বার পড়া হয়েছে

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল গবেষকের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এমন একটি পরীক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যের নমুনায় উদ্বেগজনক হারে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশেই অন্তত একটি টক্সিন জিন শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে পশুখাদ্যে দূষণের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা খাদ্যশৃঙ্খল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, Bacillus cereus খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া ও বমিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভাবিত LAMP (Loop-Mediated Isothermal Amplification) প্রযুক্তি প্রচলিত PCR পদ্ধতির তুলনায় অধিক কার্যকর ও সাশ্রয়ী। যেখানে PCR পরীক্ষায় ফলাফল পেতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে এবং প্রয়োজন হয় ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির, সেখানে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক ব্যবহার করেই ৯০ মিনিটের মধ্যে ফলাফল পাওয়া সম্ভব। প্রতি পরীক্ষার খরচও তুলনামূলকভাবে কম।

গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. আতিকুল হক বলেন, “বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদসম্পন্ন দেশের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি। অনেক ক্ষেত্রে ৪০ মিনিটের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যায়। খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।”

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গবেষণা নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বহনযোগ্য ফিল্ড কিট তৈরি, একসঙ্গে একাধিক টক্সিন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণার পরিধি এখনো সীমিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত

৯০ মিনিটে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান দেবে হাবিপ্রবির প্রযুক্তি

আপডেট সময় ০৭:২৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল গবেষকের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুল হকের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় এমন একটি পরীক্ষাপদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মাত্র ৯০ মিনিটের মধ্যে খাদ্যবাহিত ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া Bacillus cereus শনাক্ত করা সম্ভব।

গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা দুধ, ডিম ও পশুখাদ্যের নমুনায় উদ্বেগজনক হারে এই ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি রয়েছে। পরীক্ষিত নমুনার প্রায় ৮০ শতাংশেই অন্তত একটি টক্সিন জিন শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে পশুখাদ্যে দূষণের হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে, যা খাদ্যশৃঙ্খল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গবেষকদের মতে, Bacillus cereus খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়া ও বমিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। ফলে দ্রুত ও নির্ভুল শনাক্তকরণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিন ধরেই অনুভূত হচ্ছিল।

এই প্রেক্ষাপটে উদ্ভাবিত LAMP (Loop-Mediated Isothermal Amplification) প্রযুক্তি প্রচলিত PCR পদ্ধতির তুলনায় অধিক কার্যকর ও সাশ্রয়ী। যেখানে PCR পরীক্ষায় ফলাফল পেতে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগে এবং প্রয়োজন হয় ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতির, সেখানে নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সাধারণ ওয়াটার বাথ বা হিটিং ব্লক ব্যবহার করেই ৯০ মিনিটের মধ্যে ফলাফল পাওয়া সম্ভব। প্রতি পরীক্ষার খরচও তুলনামূলকভাবে কম।

গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. আতিকুল হক বলেন, “বাংলাদেশের মতো সীমিত সম্পদসম্পন্ন দেশের জন্য এটি একটি বাস্তবসম্মত প্রযুক্তি। অনেক ক্ষেত্রে ৪০ মিনিটের মধ্যেই প্রাথমিক ফলাফল পাওয়া যায়। খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশা করছি।”

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী Frontiers in Cellular and Infection Microbiology-এ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের গবেষণা নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বহনযোগ্য ফিল্ড কিট তৈরি, একসঙ্গে একাধিক টক্সিন শনাক্তকরণ প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এ প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাবে গবেষণার পরিধি এখনো সীমিত রয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেন।