জুলাইয়ে শেখ হাসিনার পক্ষে মৌন মিছিল করা শিক্ষক নিয়ে চবিতে সিনেট অধিবেশন আয়োজন, প্রত্যাখ্যান চাকসুর
- আপডেট সময় ০১:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ২২ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৩৬তম সিনেট অধিবেশন প্রত্যাখ্যান করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত না করা এবং ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ শিক্ষকদের উপস্থিতির অভিযোগ তুলে শনিবার (৮ আগস্ট ২০২৬) এই অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।
শনিবার সকাল ১১টায় চাকসু ভবনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন জিএস সাইদ বিন হাবীব।
সংবাদ সম্মেলনে ভিপি ইব্রাহিম রনি বলেন, সিনেট অধিবেশনে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে ৫ জন নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অপকৌশলের কারণে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে গত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী, জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাকাণ্ডের সমর্থক এবং ষড়যন্ত্রে লিপ্ত শিক্ষকদের নিয়ে আয়োজিত এই সিনেট অধিবেশন চাকসু মেনে নিতে পারে না।
তবে, চাকসু বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— চাকসু, হল সংসদ ও সিনেট নির্বাচন আয়োজন এবং চাকসু-হল সংসদের কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, সব আবাসিক হল সংস্কার, মেরামত ও আধুনিকায়নে পর্যাপ্ত বরাদ্দ, আলাওল ও এ. এফ. রহমান হলের এক্সটেনশন ভবন নির্মাণে উন্নয়ন বাজেট অন্তর্ভুক্তি, আবাসন সক্ষমতা অন্তত ৩০ শতাংশ বাড়াতে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট নিরসনে বহুতল আবাসিক হল নির্মাণে পৃথক উন্নয়ন বাজেট, আবাসন সুবিধাবঞ্চিত অন্তত ৩ হাজার শিক্ষার্থীকে আবাসন ভাতা প্রদান, নতুন শাটল ট্রেন সংযোজন, বিদ্যমান ট্রেনে অতিরিক্ত বগি যুক্ত করা ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উন্নয়ন, চট্টগ্রাম শহরগামী অন্তত ১০টি বাস চালু করা।
দ্রুত টিএসসি ও মুক্তমঞ্চ নির্মাণ শুরু এবং কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়াম, আধুনিক স্টেডিয়াম ও কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণ/পুনর্নির্মাণে উন্নয়ন বাজেট অনুমোদন, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল লাইব্রেরি সমৃদ্ধকরণ, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও হলগুলোর রিডিং রুম সংস্কার, আধুনিকায়ন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত করার ব্যবস্থা, মেডিকেল সেন্টারকে অন্তত ৩০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন ও অন্তত পাঁচটি নতুন অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা, ছাত্রীদের জন্য আধুনিক জিমনেসিয়াম, বিশেষায়িত টার্ফ নির্মাণ এবং ক্যাম্পাসের পুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধন, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি এবং গবেষণাগার ও গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়নে গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো।
এছাড়াও অটোমেশন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে কার্যক্রম চালু এবং সেশনজট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও বরাদ্দ, পুরো ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারি ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা খাতে বিশেষ বরাদ্দ, স্বল্পমূল্যে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া নির্মাণ এবং হল ডাইনিংয়ে খাদ্য ভর্তুকি চালু, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী খেলোয়াড় আহত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে বরাদ্দ এবং অভিজ্ঞ সাইকিয়াট্রিস্ট ও কাউন্সেলর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ ‘মেন্টাল হেলথ কাউন্সিল/সেন্টার’ পরিচালনায় প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ।
চাকসুর কার্যনির্বাহী কমিটির ভিপি ইব্রাহিম রনি, জিএস সাইদ বিন হাবীবসহ ২৪ জন প্রতিনিধি এই যৌথ বিবৃতিতে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে নির্বাচিত চাকসুর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) আইয়ুবুর রহমান তৌফিক এই বিবৃতিতে অসম্মতি প্রকাশ করেছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।





















