ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু
- আপডেট সময় ০৬:০৭:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬
- / ১৩ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বাবুর ভাড়া বাসায় সুচনা (১৮) নামে নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৭ মে) পৌর শহরের কলেজ পাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
নিহতের বাবা সোরহাব আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি ছরোয়ার হোসেনের ছেলে শাওয়াল (২৫), ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুসহ চারজনের নামে ঘাটাইল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ থেকে জানা যায়, সুচনার সঙ্গে এক মাস আগে মধুপুর উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে আলম মিয়ার (২২) সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়। কিন্তু তাদের সংসার জীবন স্বাভাবিকভাবে চললেও সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সুচনার পূর্ব পরিচিত যুবক শাওয়াল। বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও সে নানানভাবে সুচনাকে প্ররোচিত এবং বিরক্ত করতে থাকে।
এদিকে সুচনা তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসার পর গত ১২ই মে তার দেবর সোহাগ মিয়ার সঙ্গে স্বামীর বাড়ি আলোকদিয়াতে যায়। পরে ১৪ই মে নানান প্রলোভন দেখিয়ে শাওয়াল সুচনাকে তার স্বামীর বাড়ী থেকে ফুঁসলিয়ে বের করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে গিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে আলম মিয়া তার স্ত্রী সুচনাকে খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে বিষয়টি পরিবারে অবহিত করা হয়।
একপর্যায়ে রোববার (১৭ মে) সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিয়াস উদ্দিন বাবু মোবাইল ফোনে সুচনার বাবা সোরহাব আলীকে জানায়, সুচনা এবং শাওয়াল তার হেফাজতে আছে। তিনি আরও জানান, ঘাটাইলে তার ভাড়াকৃত বাসায় এলে বিষয়টি সমাধান করে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকনকে রোববার বিকেলে মোবাইল ফোনে জানায়, সূচনা গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ঘাটাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি আছে।
তাৎক্ষনিক হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে সোরহাব আলী তার মেয়েকে মৃত অবস্থায় দেখতে পায়। চিকিৎসকে মৃত্যুর কারণ জিজ্ঞাসা করলে জানান, সূচনাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
সোরহাব আলী বলেন, আমার মেয়েকে স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে পুনরায় বিবাহ করার কথা বলে ফুসলিয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে ভাগিয়ে নেয়। পরবর্তীতে বিবাহে রাজী না হওয়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের বাসায় যোগসাজশ করে হত্যা করা হয়েছে।
দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকন বলেন, বিবদমান বিষয়টি সমাধানের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুর ভাড়াকৃত বাসায় রোববার সন্ধ্যা সাতটায় সব পক্ষ নিয়ে বসার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আমরা জানতে পারি, সুচনা ওই বাসার একটি রুমে আত্মহত্যা করেছে।
সূচনার স্বামী আলম মিয়া সঠিক তদন্তের মাধ্যমে তার স্ত্রীর মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনের দাবি জানান।
সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বাবু বলেন, আমার চাচাত ভাইয়ের ছেলে শাওয়াল। কিছুদিন আগে জানতে পারি, সে একজনের স্ত্রীকে নিয়ে পালিয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য সুচনা ও শাওয়ালকে খুঁজে বের করে আমার বাসায় নিয়ে আসি।
তিনি আরও বলেন, সমাধানের জন্য গতকাল সন্ধ্যায় সব পক্ষকে নিয়ে বসার কথা ছিল। তার আগেই বাসার একটি রুমে ঢুকে সুচনা আত্মহত্যা করে। পরে বাসার মালিক পক্ষ এবং প্রতিবেশী অনেকের উপস্থিতি ও সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙে সূচনাকে উদ্ধার করে ঘাটাইল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় আমি এবং আমার স্ত্রী বাসায় ছিলাম না। সুচনা ও শাওয়ালের মাসহ অন্য আত্মীয় স্বজন সে সময় বাসায় উপস্থিত ছিলেন।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোকছেদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠান হয়েছে। এটি মৃত্যু নাকি হত্যাকাণ্ড সেটি আরও তদন্ত এবং পোস্টমর্টেমের পর বুঝা যাবে।























